ড. ইউনূস তার ছেলেদের নিয়ে শেখ হাসিনার মতো পালিয়ে যাবে : কর্নেল অলি
ছবিঃ সংগৃহীত
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম (অব.) বলেছেন, “দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ খারাপের দিকে যাচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তার ছেলেদের নিয়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার মতো পালিয়ে যাবেন।”
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ঢাকা মহানগর উত্তর এলডিপির উদ্যোগে আয়োজিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে’ এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “এনসিপি হলো অবুঝ কতগুলো ছেলে। তারা যাচ্ছে গোপালগঞ্জে। তুমি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে কি করেছিলে? তোমার তো দ্বায়িত্ব ছিল একটা পরিকল্পনা করা। তুমি তো জানো এ ধরনের ঘটনা ঘটবে। গোপালগঞ্জে এটা নতুন নয়। এর আগেও দুই তিনবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাহলে কেন এগুলো করাচ্ছ। অর্থাৎ তোমরা ভারতের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করছো। ভারতের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন না করলে আমাদের এখানে কেন অশান্তি হচ্ছে।”
কর্নেল অলি বলেন, “বিশেষ বিশেষ কিছু রাজনৈতিক সংগঠন চব্বিশের গণআন্দোলন ও অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সাথে তুলনা করতে চায়। তারা স্বাধীনতার সাথে তুলনা করে বলে, বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শহীদের রক্তের বিনিময়ের স্বাধীনতা, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে তার সাথে এক করা যাবে না। দেশ বারবার স্বাধীন হয়না। বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে। তবে আমরা ২৪ এর যোদ্ধাদের সম্মান করি। ছাত্ররা যে আন্দোলন করেছে সেই আন্দোলনে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল সমর্থন করেছে।”
তিনি আরো বলেন, “বিগত ১০ মাসে তিন হাজার পাঁচশত আটান্ন জন খুন হয়েছে। চার হাজার একশত পাঁচজনকে ধর্ষণ-বলৎকার করা হয়েছে। ১১৯ জনকে করা হয়েছে অপহরণ। দেশ তাহলে কোন দিকে যাচ্ছে? দেশের মানুষ কীভাবে নিরাপদে থাকে?”
এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, “শেখ হাসিনা আমাদের দলের নেতা কর্নেল অলিকে কিনতে পারেনি ২০১৪ সালের নির্বাচনে। ১৮ সালের নির্বাচনে হাসিনা তার ওয়াদা বরখেলাপ করেছিল। দিনের ভোট রাতের আধাঁরে করেছে।”
ঢাকা মহানগর উত্তর এলডিপির সভাপতি রিয়াসাদ উদ্দিন বলেন, “শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের দল এলডিপি গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। হাসিনার পাতানো ডামি নির্বাচন, যুগপৎ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে এলডিপি। ৩ দফায় তদন্তের পরেও আমাদের নেতা কর্নেল অলি আহমদের বিরুদ্ধে একটিও দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি দুদক।”
ঢাকা মহানগর উত্তর এলডিপির সভাপতি রিয়াসাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, উপদেষ্টা অধ্যাপক কারিমা খাতুন, যুগ্ম মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম নূরে আলম, ঢাকা মহানগর উত্তর এলডিপির সাধারণ সম্পাদক অবাক হোসেন রনি, বাড্ডা থানা এলডিপির সভাপতি রফিক, উত্তরা পশ্চিম থানা এলডিপির সভাপতি মাহবুব হোসেনসহ প্রমুখ।