সন্তানসহ স্বামী-স্ত্রীকে ঘরে রেখে তালা দিলো বাড়ির মালিক

সন্তানসহ স্বামী-স্ত্রীকে ঘরে রেখে তালা দিলো বাড়ির মালিক

ছবি : সংগৃহীত

আধাপাকা ঘরের বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। ভেতরে আটকা নবজাতক এক শিশুসহ তিন সন্তান এবং স্বামী-স্ত্রী। এমন অবস্থার কারণ, গেল জুন মাসের বাসা ভাড়া দিতে দেরি হওয়া। তাই ভাড়াটিয়ার ৭ বছরের এক ছেলেকে ঘরের বাইরে এবং নবজাতক শিশুসহ ৩ সন্তানকে ভেতরে রেখে দরজায় তালা দিয়ে দেয় বাসার মালিক। 

শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বড়পাড়া এলাকার আবাসিক এলাকা শ্যামলী ১ নম্বার ‘জনর ভিলা’য় এমন ঘটনা ঘটে। 

তালাবদ্ধ হয়ে উপায়ন্তর না পেয়ে ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া বিকেলে ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ গিয়ে পরিবারটিকে উদ্ধার করে। 

সুনামগঞ্জ সদর থানার এ এস আই গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা ৯৯৯ এ খবর পাই, একটি পরিবারকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমরা গিয়ে মালিকের মাধ্যমে তালা খুলে পরিবারকে উদ্ধার করি। ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া নাম ইকবাল হোসেন, তিনি অটোরিকশা চালক। বাড়ি জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার চেলাইয়া মাহমুদপুর এলাকায়। গেল ৭ মাস ধরে ওই বাসার মালিক মতিউর রহমানকে মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে বসবাস করছেন। 

ইকবাল হোসেন বলেন, নিয়মিত বাসাভাড়া পরিশোধ করলেও অসুস্থতার কারণে গাড়ি চালাতে পারিনি। তাই চলতি মাসের বাসা ভাড়া ৫ তারিখের ভেতর দেওয়ার কথা থাকলেও দিতে পারিনি। তাই বাসার মালিককে বলেছিলাম আগামী মাসে এক সঙ্গে দিয়ে দেব। তিনি এটা মানবেন না, তাই আমাদেরকে ঘরের ভেতরে রেখেই বাইরে তালা মেরে চলে গেছেন।

তার স্ত্রী বললেন, আমার ৬ মাসের এক মেয়েসহ ৪ সন্তান। তিনজন ঘরের ভেতরে আর এক ছেলে বাইরে। ঘরে ঢুকতে না পারায় ৮ বছরের ছেলে দুপুর সাড়ে ৩টা বেজে গেলেও খাবার খেতে পারেনি। বাইরে ছটফট করছে সে আর ভেতরে আমরা ৫ জন। এমন অবস্থায় যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটত আমাদের বাইরে যাওয়ার উপায় ছিল না। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাড়াটিয়ার সঙ্গে এমন অমানবিক কাণ্ড ঘটিয়ে অন্যত্র চলে যান বাসার মালিক মতিউর রহমান। তালাবদ্ধ ঘর দেখে প্রতিবেশী গোলাম রাব্বি নামের ব্যক্তি ফোন দিলে তার সাথেও খারাপ আচরণ করেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিবেশীরা। 

রাব্বী বলেন, মাত্র এক মাসের ভাড়ার জন্য এভাবে ঘরের ভেতরে রেখে দরজা তালা লাগানো ঠিক হয়েছে কি না ফোন করে জানতে চাই। তিনি উত্তর দেন, নীতি নৈতিকতার বাণী না দিয়ে আমি উনাকে ভাড়া পরিশোধ করে দিলেই উনি দরজা খুলে দেবেন। তারপর আমি ভাড়া দেব বলে উনাকে বাড়িতে আনি।

পাশের ঘরের আরেক ভাড়াটিয়া বলেন, আমিও এই বাড়ির ভাড়াটিয়া। আমারও নানা কারণে এক মাস দেরি হতেই পারে তাই বলে ভেতরে মানুষ রেখে বাইরে তালা দেবে। এটা ভালো কাজ হতে পারে না। 

স্থানীয় বাসিন্দা কনক মাস্টার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিশুসহ একটি পরিবারকে এভাবে ভেতরে রেখে বাইরে তালা মেরে বন্দি করে রাখা স্পষ্ট অন্যায় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন। এরকম অন্যায়ের শাস্তি না হলে এসব গুরুতর অপরাধ বাড়তে থাকবে।

তবে অভিযুক্ত বাসার মালিক মতিউর রহমান বললেন, এরা (ভাড়াটিয়া) প্রত্যেক মাসে ভাড়া দিতে দেরি করে। মাস পেরিয়ে দুই মাস হয়ে গেলেও তাদের খোঁজই পাই না। তাই তালা মেরে রেখে খেতে গিয়েছিলাম। তবে এটা আমার ভুল হয়েছে। পুলিশ আসার সাথে সাথেই খুলে দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৮ জুলাই শহরের রায় পাড়ায় একইভাবে ভাড়া দিতে মাত্র তিন দিন বিলম্ব হওয়ায় ইউসুফ চৌধুরী নামে এক বাসার মালিক কলেজ শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে বাহির থেকে তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিবারটি মুক্ত করে। এই ঘটনায় বাসার মালিক দুঃখ প্রকাশ করে তিন মাসের ভাড়া মওকুফ করেন।