মাহরীন চৌধুরীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা: হাসনাত আব্দুল্লাহ

মাহরীন চৌধুরীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা: হাসনাত আব্দুল্লাহ

ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মাহরীন চৌধুরীকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে পারিনি এটি আমাদের ব্যর্থতা।”

আজ বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ডে এনসিপির দেশব্যাপী ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। 

তিনি বলেন, “বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সকল দায়ভার অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে নিতে হবে। আমাদের আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা এখনো আগের মতই আছে। ঘটনার পর ওই কলেজে শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পেটানো হয়েছে। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।” 

তিনি আরো বলেন, “দিন শেষে আমাদেরকে ফ্যসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। আপনারা দেখেছেন গতকাল ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ লাশের ওপর দিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগের অধ্যায় শেষ। আওয়ামী লীগ যদি আবারও ফেরার চেষ্টা করে তাহলে এই শোক শক্তিতে পরিণত হয়ে তাদের ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকেও বন্ধ করে দেয়া হবে।”

ভবিষ্যত বাংলাদেশ সম্পর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা একসঙ্গে একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। যে বাংলাদেশে গুম, খুন হবে না, চিকিৎসার নিশ্চিয়তা থাকবে, সন্তানরা স্কুলে গেলে বিল্ডিং ভেঙে পড়বে না। আকাশ থেকে বিমান স্কুলে ভেঙে পড়বে এমন বাংলাদেশ চাই না।”

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির চাঁদপুর জেলার প্রধান সমন্বয়ক মো. মাহবুব আলম। 

কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, মূখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা সারমিন।

আরো বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক মো. মাহবুব আলম ও মো. মিরাজ মিয়া ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাহবুব তালুকদার।

নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, “চাঁদপুরে আমার জন্ম এবং এখানকার মাটিতেই আমাকে মিশে যেতে হবে। আল্লাহ ছাড়া আমরা কাউকে ভয় পাই না। কেউ যদি ষড়যন্ত্র করে আমাদেরকে বার বার হত্যা এবং খুন করতে আসে ততবার আমরা জেগে উঠে বলব বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার মত স্বৈরাচার কায়েম হতে দেব না। চাঁদপুরে কোন চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও বালু খেকোদের প্রশ্রয় দেয়া হবে না।”

তিনি আরো বলেন, “চাঁদপুরের অনেক গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে বহু মানুষ তাদের বসতবাড়ি হারিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছিন্নমূল হয়ে বসবাস করছে। এসব মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে হলেও আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা চাঁদপুরকে রক্ষার জন্য ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকুন।”

এনসিপির মূখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, “৫ আগস্টের পর যত ঘটনা হয়েছে, এসব ঘটনায় যেসব তদন্ত কমিটি হয়েছে, এসব কমিটিগুলোকে প্রত্যেকটি ঘটনার পিছনে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও পদ্ধতি দায়ী, সেগুলো খুঁজে বের করে তদন্ত সাপেক্ষে যেন তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হয়। বাংলাদেশ এমন ধ্বংসের পরে আর কোন চুরির খেলা দেখতে চাই না।”