বিশ্ব বাঁহাতি দিবসে বাংলাদেশের গর্ব কে

বিশ্ব বাঁহাতি দিবসে বাংলাদেশের গর্ব কে

ফাইল ফটো

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাঁহাতি। সংখ্যায় কম, কিন্তু প্রভাব? অপার, বিস্ময়কর, ইতিহাসে সোনালী অক্ষরে খোদাই করা।

ডানহাতি-নির্ভর দুনিয়ায় বাঁহাতিদের পথ কখনোই সহজ ছিল না। স্কুলের বেঞ্চ, কম্পিউটারের মাউস, রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি, প্রায় সবকিছুই বানানো ডানহাতিদের কথা ভেবে। অথচ এই ‘অসুবিধা’ই যেন তাদের আলাদা করে গড়ে তুলেছে দৃঢ়, সৃজনশীল আর ভিন্নধর্মী মানুষে।

বিশ্বের খেলাধুলা থেকে সংগীত জগত তারকাদের তালিকায় বাঁহাতিদের রাজত্ব - 
আইনস্টাইনের তত্ত্বে বদলে গেছে বিজ্ঞান, ম্যারাডোনার বাঁ পায়ে কাঁপেছে ফুটবল দুনিয়া, নাদালের র‌্যাকেটে কেঁপেছে টেনিস কোর্ট, আর ব্রায়ান লারার ব্যাটে কাঁপিয়েছে বোলারদের মনোবল। সঙ্গীতের সুরে বাঁ হাতের ছোঁয়া দিয়েছেন জাস্টিন বিবার, ডলি পার্টন, পল ম্যাককার্টনি থেকে লেডি গাগা পর্যন্ত।

আর ক্রিকেটে? ওয়াসিম আকরামের সুইং, যুবরাজ সিংয়ের আগ্রাসন। আর আমাদের গর্ব সাকিব আল হাসান। এখন প্রশ্ন থাকতে পারে বাংলাদেশের সেরা বাঁহাতি, আপনার চোখে কে?

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে বাঁহাতি তারকারা যেন অনন্য। কেউ দাপট দেখিয়েছেন ব্যাট হাতে, কেউ বল ঘুরিয়ে বিভ্রান্ত করেছেন ব্যাটসম্যানকে। হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ আশরাফুল, কিংবা তামিম ইকবাল। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে শান্ত। সবাই তাদের নিজস্ব ছাপ রেখেছেন। কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রে, বিতর্ক ছাপিয়ে, বাংলাদেশের এবং বিশ্বের সেরা আসনে বসে আছেন  অলরাউন্ডারের সাকিব আল হাসান।

তিনি শুধু বাঁহাতি নন, তিনি বাঁ হাতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় লিখেছেন। ব্যাটে-বলে সমান তালে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

কেন বাঁহাতিরা এত ভিন্ন?
গবেষকরা বলেন, বাঁহাতিদের মস্তিষ্কের গঠন কিছুটা আলাদা, যা তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া, কল্পনা করা ও সৃজনশীল কাজে এগিয়ে রাখে। হয়তো এই কারণেই তারা অল্প হলেও প্রভাবশালী, আর মাঠে বা মঞ্চে দাঁড়ালে সবার নজর কেড়ে নেন।

বাঁহাতি রাজনীতি নেতাদের যত গল্প- 
পৃথিবীর মানচিত্রে তারা সংখ্যা গরিষ্ঠ নন, বরং হাতে গোনা কয়েকজন। তবুও ইতিহাসের ক্ষমতার আসনে, যুদ্ধের ময়দানে, কিংবা রাজপ্রাসাদের সিংহাসনে, বারবার দেখা গেছে বাঁ হাতের শাসন।

ভাবুন তো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে বসে রাষ্ট্র চালাচ্ছেন এক বাঁহাতি নেতা। একবার নয়, দু’বার! বিল ক্লিনটন আর বারাক ওবামা,  দুই ভিন্ন প্রজন্মের দুই প্রেসিডেন্ট, কিন্তু হাতে কলম ধরা একদম একইভাবে, বাঁ হাতে।

এপারের গল্প শেষ হতে না হতেই চলে আসে ইংল্যান্ডে। যুদ্ধের আঁধারে আলো জ্বালানো উইনস্টন চার্চিল, আধুনিক ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, আর রাজপরিবারের তরুণ উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম, সবাই বাঁহাতি।

আর আছে রাজকীয় কাহিনি। উইলিয়ামের প্রপিতামহ রাজা জর্জ ষষ্ঠ জন্মসূত্রে বাঁহাতি ছিলেন। কিন্তু সময়টা ছিল অন্য। তার বাবা রাজা জর্জ পঞ্চম মনে করতেন বাঁ হাত ব্যবহার করা যেন অস্বাভাবিক কিছু। তাই রাজপুত্রকে জোর করে ডান হাতে লিখতে শেখানো হয়।
কল্পনা করুন, ক্ষমতার চূড়ায় থেকেও নিজের স্বভাবসুলভ হাত লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হওয়া। এ যেন এক রাজকীয় শৃঙ্খলের গল্প, যেখানে বাঁ হাতের স্বাধীনতা ছিল নিষিদ্ধ।

তবুও, ইতিহাস প্রমাণ করেছে, বাঁ হাতকে থামানো যায় না। রাজনীতি, যুদ্ধ, নেতৃত্বে কিংবা ক্রিকেটের মাঠে তাদের ছাপ অমোচনীয়