বর্ণিল আয়োজনে নবীনদের বরণ করল নর্দান ইউনিভার্সিটি

বর্ণিল আয়োজনে নবীনদের বরণ করল নর্দান ইউনিভার্সিটি

ছবি: সংগৃহীত

নর্দান ইউনিভার্সিটির সামার-২০২৫ সেমিস্টারের নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করতে আয়োজিত ফ্রেশারস রিসেপশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উচ্চশিক্ষার সূচনায় নবীন শিক্ষার্থীরা এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক, কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও লেখক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।

বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে দামি জিনিস হলো মস্তিষ্ক। প্রায় ১৩০ বছর আগে জগদীশ চন্দ্র বসু যে আবিষ্কার করেছিলেন, তা রেডিও আবিষ্কারের সমান গুরুত্ব বহন করে। তার ধারাবাহিকতায় আমাদের মোবাইল আবিষ্কারের কথা ছিল, কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি; কোরিয়ানরা করেছে। ১০ বছর আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিদেশিরা আমাদের দেশ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যায়; এখন হয়তো তা বেড়ে ১ লাখ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। দক্ষ জনশক্তি থাকলে এ অপসারণ রোধ করা সম্ভব হতো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা মেধাবী, কিন্তু শিক্ষা পদ্ধতিতে সমস্যা আছে। রিপোর্ট বলছে, কলেজের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অনেক ক্ষেত্রে সপ্তম শ্রেণির সমপর্যায়ের। আমরা তাদের যথাযথ পদ্ধতি দিতে পারিনি, এটাই দুর্ভাগ্য। তবে তাদের অফুরন্ত প্রাণশক্তি কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষা ও দক্ষতার মাধ্যমে জনশক্তিকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলেই দেশ সমৃদ্ধ হবে। নর্দান ইউনিভার্সিটি নবীন শিক্ষার্থীদের গড়ে উঠতে সহায়তা করবে বলে আমি আশাবাদী।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে বিনয় অপরিহার্য। যে গাছে ফল ধরে, সে গাছ নুইয়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিনয়ের অভাব দেখা যাচ্ছে। দুর্বিনীত হওয়া মানে হলো তুমি কিছুই অর্জন করোনি।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো স্বাধীনতার জায়গা। এখানে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য পড়াশোনা—সেটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। 

তিনি শিক্ষার্থীদের বিনয়ী হয়ে মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা।