ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাস ও অতীতের নির্বাচন

ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাস ও অতীতের নির্বাচন

ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) দেশের ইতিহাস ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৩৭ বার নির্বাচন হলেও স্বাধীনতার পর অনেকবার নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভিপি হন নুরুল হক নুর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরপরই শুরু হয় ছাত্র সংসদের কার্যক্রম। ১৯২১ সালের ১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরে তিনটি আবাসিক হলে ছাত্র সংসদ গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯২২-২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ গঠিত হয়। শুরুতে ডাকসু নামে পরিচিত না হলেও পরবর্তীতে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৫-৪৬ সালে উপাচার্য পিজে হার্টগ পদাধিকারবলে সভাপতি হন। সহ-সভাপতি ছিলেন আহমেদুল কবির এবং সাধারণ সম্পাদক সুধীর দত্ত। পরে আহমেদুল কবির পদত্যাগ করলে ফরিদ আহমদ সহ-সভাপতি হন। ১৯৪৭-৪৮ সালের সংসদে সহ-সভাপতি হন অরবিন্দ বসু এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন গোলাম আযম। এরপর ১৯৫০ সালে মেয়াদ শেষ হলে সংসদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান—সবক্ষেত্রেই ডাকসু ছিল অগ্রণী ভূমিকায়। এজন্য একে অনেকেই ‘দ্বিতীয় সংসদ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

১৯৭২ সালের নির্বাচনে ভিপি হন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক হন মাহবুবুর জামান। ১৯৭১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ১৯ বার নির্বাচনের কথা থাকলেও মাত্র ৭ বার নির্বাচন হয়েছে।

১৯৯১ সালের ১৮ জুন ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সহিংসতার কারণে তা হয়নি। ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ তফসিল ঘোষণা করলেও ছাত্রলীগের বিরোধিতার কারণে নির্বাচন হয়নি। একই অবস্থা দেখা যায় ১৯৯৬ ও ১৯৯৮ সালেও।

২০০৫ সালে তফসিল ঘোষণা হলেও ছাত্রলীগের বিরোধিতার কারণে নির্বাচন হয়নি। এরপর ২০১২ সালে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, ধর্মঘট, কালো পতাকা মিছিল ও ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনের দাবি জানান। যদিও আন্দোলন চললেও তা সফল হয়নি।

দীর্ঘ বিরতির পর হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন হয়। তাতে ভিপি নির্বাচিত হন নুরুল হক নুর এবং সাধারণ সম্পাদক হন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানী। তবে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের কারণে নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।