৯ মাস নয় ৩ মাসেই পচছে পেঁয়াজ, ক্ষতির মুখে কৃষক

৯ মাস নয় ৩ মাসেই পচছে পেঁয়াজ, ক্ষতির মুখে কৃষক

ছবি : সংগৃহীত

ভালো দামের আশায় রাজবাড়ীতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আধুনিক মডেল ঘরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছিলেন কৃষকরা। তবে প্রত্যাশিত ফল পাননি তারা। ৬ থেকে ৯ মাস ভালো থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই পেঁয়াজে ধরেছে পচন। এতে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।

রাজবাড়ীর পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ ও রসুনের পচন রোধে আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধা দিতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ১০০টি মডেল ঘর নির্মাণ করে। প্রতিটি তাপ প্রতিরোধক ঘর নির্মাণে খরচ হয়েছে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। গত দুই বছরে এসব ঘর কৃষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রথমে ঘর পেয়ে খুশি হলেও এখন হতাশ কৃষকরা। তাপ নিয়ন্ত্রিত কাঠ, বাঁশ ও টিনের এই ঘরে অন্তত ৯ মাস পেঁয়াজ ভালো থাকার কথা ছিল। কিন্তু সংরক্ষণের মাত্র তিন মাসের মাথায়ই পচন শুরু হয়েছে। অনেক কৃষকের অর্ধেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। কেউ কেউ আবার দ্রুতই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

‘পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ঘর নির্মাণ করা হয় কংক্রিটের পিলারের ওপর। ২৫ ফুট লম্বা ও ১৫ ফুট চওড়া এসব ঘরে রয়েছে তিন স্তরের মাচা। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ সাপেক্ষে পাঁচজন কৃষক মিলে প্রায় ৩০০ মণ পেঁয়াজ রাখতে পারেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একজন কৃষক পুরো ঘর ব্যবহার করছেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রকল্পের উপপরিচালক মো. রাজিব খান বলেন, বেশিরভাগ কৃষক হাইব্রিড বা উচ্চ ফলনশীল জাতের পেঁয়াজ রেখেছেন। এগুলো দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের উপযোগী নয়। আমরা দেশি জাত রাখতে বলেছি, কিন্তু অনেকে তা মানেননি। ফলে পচন ধরেছে।

পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। তারা আধুনিক ঘরের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। ফলে অনেকেই এখন অন্য উপায়ে সংরক্ষণের কথা ভাবছেন।