জগলুল হায়দারের ছড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী সাংস্কৃতিক হাতিয়ার

জগলুল হায়দারের ছড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী সাংস্কৃতিক হাতিয়ার

সংগৃহীত

‘ছাত্র জাগলে একুশ হয়/ ছাত্র জাগলে নব্বই/ ছাত্র জাগলে লেখা হয়/ ইতিহাসের সব বই।’ কিংবা ‘ষড়যন্ত্রের সঙ বুঝি না, দেশটা বুঝি পুরা, দেশের গায়ে হাত দিলে জাস্ট হাড্ডি করুম গুঁড়া।’ এমন অসংখ্য সময়োপযোগী ছড়া-পদ্য রচনা করে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলনকে প্রাণিত করেছেন ছড়াকার জগলুল হায়দার।

বিপ্লবী এসব সাহিত্যকর্মকে সামনে রেখে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল্যবোধ বাস্তবায়নে সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরালো করতে হবে। আধিপত্যবাদী কালচারাল মনোপলি ভাঙতে বাংলাদেশপন্থি মূল্যবোধ সম্পন্ন সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। কারণ জুলাইয়ের সাংস্কৃতিক অভিপ্রায় থেকে সরে গেলে বিপর্যয় নেমে আসবে।

২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাংলা একাডেমির শামসুর রাহমান মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ছড়াকার জগলুল হায়দার নাগরিক সংবর্ধনা কমিটি’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান কবি জাহিদ কাজী। ফজলুল হক তার বক্তব্যে বলেন, ‘জগলুল হায়দার শুধু একজন ছড়াকারই নন, তিনি আমাদের সময়ের এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। সাহসী কলম দিয়ে তিনি সমাজ-রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় সংকটের কথা সাহসিকতার সঙ্গে লিখে গেছেন। তার ছড়া বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আশা করছি জগলুল হায়দার আগামী দিনেও তার লেখালেখিতে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন। দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসবেন।’

কবি শাহীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, কবি জাকির আবু জাফর, কবি জামসেদ ওয়াজেদ, শিল্পী ও সাংবাদিক আমিরুল মোমেনীন মানিক, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। প্রধান আলোচক ছিলেন চিন্তক, গবেষক ও সাংবাদিক ড. কাজল রশীদ শাহীন।

অতিথিরা বলেন, ‘জগলুল হায়দারের ছড়া পাঠকের অন্তরে সরাসরি আঘাত হানে। তার লেখনীতে প্রতিবাদ, বিদ্রূপ ও হাস্যরস এক অনন্য মিশ্রণ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে তিনি যে সাহসের সঙ্গে কলম ধরেছেন, তা তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে।’