পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সৈকতে ঝুঁকিতে লাইফগার্ড কার্যক্রম

পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সৈকতে ঝুঁকিতে লাইফগার্ড কার্যক্রম

সংগ্রহীত ছবি

এবার ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের প্রাণ রক্ষার কাজে নিয়োজিত লাইফগার্ড সেবা কার্যক্রম। বিদেশি দাতা সংস্থার তহবিল সংকটের মুখে পড়ে আগামী মাস (অক্টোবর) থেকে সৈকতের লাইফগার্ড কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

জানা গেছে, গত এক দশকে সাগরে গোসল করতে নেমে ৬৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আর এ সময়ে জীবিত উদ্ধার করা হয় ৮২৪ জন পর্যটককে।

যার পেছনে লাইফগার্ডের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক নিজাম উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লাইফগার্ড সেবা কার্যক্রম যেন চালু থাকে, সেই জন্য স্থানীয় হোটেল-মোটেল মালিকসহ পর্যটন ব্যবসায়ীদের নিয়ে আমরা একটি ব্যবস্থা করতে পারব বলে আশা রাখছি।’

লাইফগার্ড বন্ধের আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ।

এ বিষয়ে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের নামে সৈকতের বালিয়াড়ি দখল হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে লাইফগার্ড সেবা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ব্যাপারটি পর্যটনশিল্পের জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সমিতির কর্মকর্তারা জানান, সৈকত ব্যবস্থাপনার নামে বিভিন্ন খাতে বার্ষিক বিপুল অঙ্কের টাকা আয় করে থাকে ব্যবস্থাপনা কমিটি। সেই তহবিল থেকেই লাইফগার্ডের ব্যয় পুষিয়ে নেওয়া যায়।

জানা গেছে, গত এক দশক সময়েরও বেশি সময় ধরে সি-সেফ লাইফগার্ডের সেবা কার্যক্রম চলে আসছে কক্সবাজার সৈকতে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) নামক সংস্থাটির ২৭ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকর্মী (লাইফগার্ড) সৈকতে পর্যটকদের প্রাণ রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন।

সি-সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, ‘পর্যটকরা সাগরে নেমে অনেক সময় আবেগ-উচ্ছ্বাসে খেই হারিয়ে ফেলেন। গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরও ঢেউয়ের কবলে পড়ে ভেসে যাওয়া অবস্থা থেকে পাঁচ পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে।’