অদ্ভুতুড়ে ব্যাটিংএশিয়া কাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশের

অদ্ভুতুড়ে ব্যাটিংএশিয়া কাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশের

সংগ্রহীত ছবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সহজ সমীকরণ, জিতলেই ফাইনাল। বাংলাদেশের বোলাররা এই স্বপ্নটাকে নাগালের মধ্যেই রাখেন। পাকিস্তানের ইনিংস থামে ১৩৫ রানে। তবে লক্ষ্য তাড়ায় অদ্ভুতুড়ে আচরণ ব্যাটারদের।

উড়িয়ে মারার নেশায় মত্ত হন পারভেজ হোসেন, তাওহিদ হৃদয়রা। তার খেসারত দিতে হয়েছে ম্যাচ হারের মধ্য দিয়ে। ১১ রানের হারে এশিয়া কাপের ফাইনালে তো ওঠা হলোই না, সঙ্গে টুর্নামেন্ট থেকেও বিদায় নিশ্চিত হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।

বাংলাদেশি ব্যাটারদের দৃষ্টিকটু শটস নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় ধারাভাষ্যকার সুনীল গাভাস্কার বলেন, ‘সবাই হিরো হওয়ার চেষ্টা করছে।

এ জন্যই এমন ব্যাটিং বিপর্যয়। তারা উইকেটে আসছে, একটা করে ছক্কা মারছে আর আউট হচ্ছে। মনে হচ্ছে, ১৭০ রান তাড়া করতে নেমেছে।’

নিজের খেলা দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকান শেখ মেহেদী হাসান।

নুরুল হাসান ছয় মারেন প্রথম বলেই। মেহেদী যখন উইকেটে আসেন, তখন ৪.২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২৩ রান বাংলাদেশের। নুরুল যখন আসেন, তখন ৫.১ ওভারে ৩ উইকেটে ২৯ রান। অর্থাৎ চাপের মধ্যেই ছিল দল। তবু ব্যাট চালানো বন্ধ করেননি ব্যাটাররা।

প্রথম ৩৬ রানের মধ্যে বাউন্ডারি থেকেই তোলে ২৮ রান। এর আগে আউট হওয়া ৩ ব্যাটারের দুজনই ফেরেন ছক্কায় বল ওড়াতে গিয়ে। পরে একই ভুলে ফেরেন মেহেদী-নুরুলসহ আরো একাধিক ব্যাটার। তাতে নাগালের মধ্যে থাকা লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ দল।

অথচ জিতলেই ফাইনাল, এমন সমীকরণের ম্যাচে দারুণ শুরু এনে দেন বোলাররা। ইনিংসের প্রথম ওভারে পাকিস্তানি ওপেনার শাহিবজাদা ফারহানকে (৪) আউট করেন তাসকিন আহমেদ। এই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। আগের দুজন সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। এরপর নতুন ব্যাটার সাইম আইয়ুবকে রানের খাতা খুলতে দেননি মেহেদী। পরে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য লড়লেও বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে চাপে ছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা। ১১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৫ রান তোলে পাকিস্তান।

এরপর হাতে আসা একাধিক ক্যাচ যেমন ছাড়েন ফিল্ডাররা, তেমনি রান আউটের সহজ সুযোগও হারান। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেনি পাকিস্তান। পরে ৯ ওভারে ৮০ রান তোলে দলটি। মোহাম্মদ হারিসের ৩১, শাহীন আফ্রিদির ১৯ এবং মোহাম্মদ নেওয়াজের ২৫ রানে লড়াইয়ের পুঁজি পায় পাকিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন তাসকিন।

লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ দলও প্রথম ওভারে উইকেট হারায়। পাওয়ার প্লেতে ৩৬ রান তুললেও ৩ উইকেট হারায় তারা। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি ব্যাটাররা। উড়িয়ে মারার অদ্ভুতুড়ে নেশায় একের পর এক উইকেট হারায় দলটি। এক প্রান্ত আগলে খেলে শামীম (৩০) চেষ্টা করলেও দলকে বাঁচাতে পারেননি। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১২৪ রানে।