ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করবে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করবে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে খেলাধুলায় নিষেধাজ্ঞার দাবি বেশ জোরালো। আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপেও ইসরায়েলের অংশগ্রণের বিরুদ্ধে ইউরোপের অনেক দেশ। এমনকি এ বিষয়ে একমত উয়েফাও। তবে বিশ্বকাপে ইসরায়েলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ঠেকাতে যে কোনো প্রচেষ্টা রুখে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, “আমরা নিশ্চিত করব, ইসরায়েলের জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার কোনো চেষ্টা সফল না হয়।”

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। সাম্প্রতিক খবরে জানা গেছে, ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার ভেতরে ইসরায়েলকে ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে চাপ বাড়ছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের একটি কমিশন জানায়, ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এ প্রেক্ষাপটেই উয়েফার ২০ সদস্যের নির্বাহী কমিটির বড় অংশ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, রাশিয়া ও ইসরায়েলকে নিয়ে ফুটবলের প্রতিক্রিয়া কেন ভিন্ন হলো? ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়াকে দ্রুত নিষিদ্ধ করেছিল উয়েফা ও ফিফা। অথচ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আর জাতিসংঘের গণহত্যার ঘোষণার পরও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক ফুটবল চালিয়ে যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও খেলাধুলায় ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, “বর্বরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া বা ইসরায়েল- কেউই কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় থাকা উচিত নয়।” রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে উয়েফা নির্বাহী কমিটি জরুরি ভোট ডেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে উয়েফার ক্ষমতা সীমিত। তারা ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলকে আটকালেও বিশ্বকাপ বাছাই থেকে বিরত রাখতে পারবে না। বিশ্বকাপ বাছাই নিয়ন্ত্রণ করে ফিফা।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ। সম্প্রতি তিনি নিউইয়র্কে ফিফার স্যাটেলাইট অফিস ট্রাম্প টাওয়ারে অবস্থান করছেন। যেহেতু ২০২৬ বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রে, আর ট্রাম্প খোলাখুলি ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র- তাই ফিফা আদৌ নিষেধাজ্ঞায় যাবে কি না, তা অনিশ্চিত।

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব নরওয়ের টিভি২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “ইসরায়েল ফিফার নীতি, মূল্যবোধ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। তাই আমার বিশ্বাস, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসা উচিত। এই শাস্তি উয়েফা ও ফিফা দুদিক থেকেই আসা উচিত।”

এদিকে ইসরায়েলের ক্রীড়া ও সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান মোশে জুয়ারেস সক্রিয়ভাবে লবিং করছেন, যাতে জাতীয় দলকে প্রতিযোগিতায় রাখা যায়।