অ্যাপ বন্ধ করে যোগাযোগ ঠেকানা যাবে, প্রশ্ন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামালের

অ্যাপ বন্ধ করে যোগাযোগ ঠেকানা যাবে, প্রশ্ন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামালের

ছবি মাসুদ কামাল

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রবিবার দিন আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটি একটা বৈঠকে বসেছিল এবং সে বৈঠকে বসে তারা বিশাল গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। নেয়নি এখনো বলা হয়েছে তারা চিন্তা-ভাবনা করছে এবং সেটা বাইরে নিউজ আকারে এসেছে সে চিন্তাভাবনাটা কি, তারা চিন্তা করছে যে দুটো অ্যাপ বন্ধ করে দেবে, কি ধরনের অ্যাপ বন্ধ করে দেবে। এই যে আমরা যে নানা রকম কথাবার্তা বলি না, বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার ইমো টেলিগ্রাম এরকম দুটো অ্যাপ, অনেক অ্যাপ আছে।

মাসুদ কামাল বলেন, কতগুলো অ্যাপ আছে কেউ জানে না, কেউ বলতে পারবে না কতগুলো অ্যাপ আছে প্রতি আপনি যখন হিসাব করলেন হিসাব করে বের করলেন যে এখন পৃথিবীতে মোটামুটি ২ হাজার ৩৩২টি অ্যাপ আছে।

যখন এই তথ্যটা আপনি আমাকে দেবেন আমি যখন এটা প্রচার করতে থাকবো। তখন এটা ভুল হবে ভুল কেন হবে যতক্ষণ এটা প্রচার করব দেখা যাবে ততক্ষণে আরো দুইটা অ্যাপ তৈরি হয়ে গেছে। প্রতিদিনই নানাজন নানা ধরনের অ্যাপ বানাচ্ছে এগুলো কোনো জটিল বিষয় না। বানাচ্ছে অনেকে তো তারা চিন্তা করে দেখছে যে এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে নানা রকম খবর সংবাদ আদান-প্রদান হয় এবং তারা এটাও দেখেছে কয়েকদিন আগে তারা আওয়ামী লীগ বিভিন্ন ঝটিকা মিছিল হচ্ছে।

এই ঝটিকা মিছিলগুলো থেকে তারা যে ২৪৪ জন লোককে গ্রেপ্তার করেছে তাদের কাছ থেকে নাকি তারা তথ্য পেয়েছে যে তাদের মধ্যে দেড় শতাধিক ব্যক্তি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং দুইটা সুনির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে বেশি যোগাযোগ করে। এই দুইটা অ্যাপ কি একটা টেলিগ্রাম আর একটা বোটিম। 

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ‘কথা’ নামের নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, টেলিগ্রামের নাম আমার ধারণা দর্শকদের মধ্যে প্রায় সবাই শুনেছেন, বোটিমের নাম অনেকেই শুনেন নাই।

কারণ বোটিমটা বেসিক্যালি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটা মানে মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবহার বেশি। বিশেষ করে আপনার দুবাই সারজে ইউএই এখানে খুব ব্যবহার হয় এবং আমাদের দেশ থেকে যাদের আত্মীয়স্বজন দুবাই আছে তারা যখন কথা বলেন আমাদের এখান থেকে তারা বোটিমেই কথা বলেন অন্য কোন অ্যাপে কথা বলা যায় না ওখানে আপনার মাধ্যমে ছবি আদান প্রদান করা যায় মেসেজ পাঠানো যায় কিন্তু কথা বলা যায় না। কথা বলার জন্য বোটিমটাই ব্যবহার করতে হবে এই বোটিমের ওপর উনাদের আপত্তি বোটিম বন্ধ করতে হবে আর বন্ধ করতে হবে টেলিগ্রাম এই ১৫০ জন লোক তাকে নাকি বলেছে। আমি খুব মানে অবাক লাগে মাঝে মাঝে আমার কাছে যে উনারা যে এত বুদ্ধিমান দেশ চালাচ্ছে তার নিশ্চয় বুদ্ধিমান আমি দেখলাম একটা ছবিও দেখলাম তথ্য আপনার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মাঝখানে বসে আছেন একদিকে আইজিপি আরেকদিকে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার যিনি মানে আপনার পরামর্শদাতা আছেন খোদা বক্স চৌধুরী সাবেক আইজিপি উনিও বসে আছেন। উনারা বসে অনেক জ্ঞান বুদ্ধি করে এটা বের করছেন যে এই দুইটা তারা আপাতত এর স্পিড কমায় দেবে রাতের বেলায় আর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বন্ধ করে দেওয়া যায় কিনা এটা নিয়ে তারা চিন্তা-ভাবনা করছেন তারা বিশেষজ্ঞদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন মানে অনেক গবেষণার পর এটা তারা বের করছেন মানে আমার আমি হাসবো না কাঁদব আমি বুঝতে পারি না এই ধরনের বুদ্ধি নিয়ে উনারা এত মন্ত্রণালয় চালান, দেশ চালান কিভাবে সম্ভব? কোনো ধারণা আছে এই লোকগুলোর যে, এই অ্যাপ বন্ধ করলে কি হয় এবং অ্যাপ বন্ধ করা যায় কিনা? 

মাসুদ কামাল বলেন, আমি কয়েকটা প্রশ্ন করি আপনারা শুনেন।

১৫০ জন মানে ২৫০’র মধ্যে ১৫০ জন লোক নাকি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলে এগুলো অ্যাপের মাধ্যমে। মানে শেখ হাসিনা এদের কাছে এত এভেলেবল যে কেউ কথা বলতে পারে। পারে আপনি পারবেন আপনি সারা দিনে এগুলো কথাই বলবেন। সবাই বলতে পারে আমি বুঝলাম না কেমনে সম্ভব। সম্ভব ধরে নিলাম তাদের কথা ঠিক। সবাই এই অ্যাপটা ব্যবহার করে আজকে আপনি এই অ্যাপটা বন্ধ করে দেবেন কালকে আরেকটা অ্যাপে কথা বলবে আপনি কি করে বুঝবেন প্রতিবার গ্রেপ্তার করবেন। তাদের কাছ থেকে জানবেন যে কোন অ্যাপে কথা বলে তো আপনি সে বন্ধ করবেন কয়টা বন্ধ করবেন আপনি এই দুটা অ্যাপ বন্ধ করা মানে কি অন্য কোনো অ্যাপ চলবে না, ভাই নাম্বারটা থাকলে তো হয় যে নাম্বার থেকে উনি কথা বলেন সেই নাম্বারটা যারা যারা জানে যে কোন অ্যাপ থেকে ও নাম্বারে ঢুকতে পারবে উনি যখন দেখবেন যে এই উনি পর্যাপ্ত শ্রোতা পাচ্ছেন না তখন আরেক অ্যাপে চলে যাবেন কয়টা অ্যাপ আছে বলেন এই মুহূর্তে। আমি উনাদের একটা প্রশ্ন করি আপনারা বলতে পারবেন এই মুহূর্তে এই ধরনের টকিং এক মেসেজ দেওয়ার অ্যাপ কতগুলো আছে পৃথিবীতে? বলতে পারবেন, পারবেন না আমি কয়েকটা নাম আপনাদেরকে বলি এই সবগুলো অ্যাপ বন্ধ করতে হবে তাহলে আপনাকে তাহলে তাও পারবেন না তাও বন্ধ করতে পারবেন না এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় সারা দুনিয়াতে হলো হোয়াটসঅ্যাপ তারপরে ফেসবুক মেসেঞ্জার সপচ্যাট টেলিগ্রাম উইচ্যাট লাইন আই মেসেজ ডিসকর্ড সিগনাল ভাইবার ক্যাক আউটক ইমো এগুলি সবগুলি। কিন্তু এই ধরনের চ্যাট এবং চীনে যখন আপনি যাবেন চিনে এগুলো একটাও চলবে না চীনে চলে উইচ্যাট ওই চ্যাটটা চলবে চীনে চলে উইচ্যাট ঠিক আছে চীন কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ ভাইবার সব বন্ধ ফেসবুক সব বন্ধ করে রাখছে তো ওই চ্যাট চলে কিন্তু ওই চ্যাট কিন্তু আপনি আবার এখানে বসেও ডাউনলোড করতে পারবেন আপনি এখানে বসে চীনের কোন লোকের সঙ্গে আলাপ করতে পারবেন কিভাবে সম্ভব বলেন, এটা কি মানে এই ধরনের চিন্তা কিভাবে আসে বর্তমানের এই সময়ে বর্তমানের সময়টা কি এটা আসলে যোগাযোগের সময় এই সময়ে যারা এই ধরনের অ্যাপ বন্ধ করতে চায় কথাবার্তা বন্ধ করার জন্য তাদের মানে মস্তিষ্কের সুস্থতা নিয়ে আমার সন্দেহ হয় মাঝে মাঝে এর ফলাফল কি হয় দেখেন নাই কয়েকদিন আগে নেপালে দেখলেন না সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধ করে দিছিল ভাই সরকার পড়ে গেছি বাদ দেন ওইটা গতবছর এই যে জুলাই আন্দোলন জুলাই আন্দোলন আমরা বলি জুলাই আন্দোলনে কি হয়েছিল বলেন তো, কি হয়েছিল নাকি এই ১৭ জুলাই রাতে তারা প্রথম মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় তারপরে ১৮ জুলাই রাতে ব্রডব্যান্ড বন্ধ করে দেয় এবং সবচেয়ে আগে বন্ধ করে তারা এই ফেসবুক এবং আপনার ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমগুলো।

তাতে কি হয়েছিল আন্দোলন থামানো গিয়েছিল যায়নি তো আপনারা ওই পথে কেন হাঁটছেন ওই বুদ্ধি নিয়ে চলেন আপনারা জুলাই আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেন জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা যা করছিল আপনারা সেই কাজগুলি করতে যাচ্ছেন কেন এর মাধ্যমে আপনি কি করবেন থামাতে পারবেন, পারবেন না তো এখন মানে এখান থেকে যদি আপনার শিক্ষা না নেন তাহলে সমস্যাটা কি হয় সেটা বলি আপনাদেরকে দেখেন কতগুলি চিন্তার বিষয়গুলো আপনাদের বুঝতে হবে সারা দুনিয়ার কাছে কিন্তু আপনারা ছোট হয়ে যাবেন সারা দুনিয়া বলবে এরা এগুলি বন্ধ করে দিয়েছে যখন যেইমাত্র আপনি বন্ধ করবেন প্রতিটা দেশ বলবে যে এখানে মানে ইয়াং জেনারেশনের মানুষের মধ্যে সরকার বিরোধী মনোভাব এত তীব্র হয়েছে যে সরকার এগুলি বন্ধ করে দিচ্ছে। সব দেশে যারা যারা বন্ধ করেছে তারা কিন্তু একদম এমন সময় বন্ধ করেছে যখন তারা আন্দোলনে ভীত হয়ে গেছিল। তো আমাদের দেশে কি সেই পরিমাণে আন্দোলন আছে? তাহলে কেন আপনারা নিজেদেরকে মানুষের কাছে প্রমাণ করতে চান যে আপনারা আন্দোলনে ভীত হয়েছেন।