শ্যামলী নূর জামে মসজিদ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

শ্যামলী নূর জামে মসজিদ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

সংগৃহীত

রাজধানীর শ্যামলী নূর জামে মসজিদ উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় মুসল্লীরা। প্রায় ২ হাজারের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লী শুক্রবার (৩ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর দুপুর ২টায় মসজিদের উত্তর গেট থেকে মিছিল শুরু করে নাক-কান-গলা হাসপাতাল পেরিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পর্যন্ত গিয়ে আবার মসজিদ পর্যন্ত ফিরে আসে।

পরে মানববন্ধনে উপস্থিত এলাকার গণ্যমান্য মুসলিম ব্যক্তিগণ মিছিলে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই মসজিদে নামাজ আদায় করছি এবং এটি এলাকার মুসল্লিদের ঈদগাহ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। মুসল্লিদের পক্ষে ঘোষণা দেওয়া হয়, আমরা এক বিন্দু রক্ত থাকতেও মসজিদ এবং জায়গা ছাড়ব না। যদিও সরকারি নিয়ম মেনে বরাদ্দের জন্য আবেদন করা আছে। কিন্তু অন্য কোনো সূত্রে এই মসজিদ বা জায়গা দখল করা যাবে না। এ বিষয়ে এলাকার ধর্মপ্রাণ ব্যাক্তি ও মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার একদল আনসার সদস্য গেট ভেঙে মসজিদের ভেতরে ঢুকে এটি দখলের চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তৎক্ষণাত ছুটে এসে তা প্রতিরোধ করেন। মসজিদটি এই এলাকার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের একমাত্র নামাজের স্থান।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বাবু বলেন, মসজিদটি ১নং রোডের পাঠান সাহেবের গলিতে অবস্থিত এবং এটি ২০০৪ সালে একটি পরিত্যক্ত গভীর জলাশয় ভরাট করে নির্মাণ করা হয়। অদ্যাবধি এর জন্য কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ প্রতি জুমায় ২ থেকে ৩ হাজার মানুষ জামায়াতে নামাজ আদায় করে থাকেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার আনসারের একটি দল মসজিদের গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে দখলের চেষ্টা করলে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তা প্রতিহত করেন। বর্তমানে মসজিদের জমি বরাদ্দের বিষয়টি আবেদন সাপেক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। যার মামলা নং- ২৪৯/২০১৬। একইসঙ্গে, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে মসজিদের জমি বরাদ্দের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমায়ুল হক বলেন, মসজিদের জায়গাটি ২০০৯ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে পুলিশ মেস ও আনসারদের জন্য বরাদ্দ করা হয়। মসজিদটি ওয়াকফ কমিটির অনুমোদন এবং গণপূর্ত থেকে বরাদ্দ পায়নি। আমাদের সাথে মসজিদ কমিটির আলোচনা চলমান রয়েছে। এরই মাঝে একদল আনসার সদস্য কোনরূপ আলোচনা ছাড়াই সোমবার মসজিদের ভিতরে দেয়াল তুলতে গেলে মুসল্লিদের বাধার মুখে পড়ে। 

মুসল্লিরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে। আমরা মসজিদ কমিটির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করতে এখনো তৎপর। আশা করি একটা সুন্দর সমাধানে পৌঁছাতে পারবো।