চাকসু নির্বাচনে সার্বভৌম শিক্ষার্থী ঐক্যের ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা
সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে স্বতন্ত্র প্যানেল ‘সার্বভৌম শিক্ষার্থী ঐক্য’। এতে চাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা, শতভাগ অনলাইন পেমেন্ট চালু, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি বাস্তবায়ন, মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিতকরণসহ নানা সংস্কার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুরে চাকসু ভবনের সামনে প্যানেলের ভিপি প্রার্থী তাওসিফ মুত্তাকী চৌধুরী ও জিএস প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভিপি প্রার্থী তাওসিফ মুত্তাকী চৌধুরী বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ দেখেছি। এর সুন্দর কাঠামো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কোনো কোম্পানি থেকে করা হয়েছে। আমরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে চাই, সেটা দুই উপায়ে করা সম্ভব। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের মাধ্যমে, আরেকটি সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে।
ঘোষিত ইশতেহারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো-
» চাকসুতে পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ ও মতামত প্রেরণের ব্যবস্থা এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ।
» নিয়মিত চাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মেয়াদ শেষে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের আইনি বিধি প্রণয়ন।
» প্রক্টরিয়াল বডির নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে ছাত্র সংসদের একজন পুরুষ ও একজন নারী প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
» বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শাটলের পৃথক রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং শিডিউল বিপর্যয় রোধ।
» ক্যাফেটেরিয়া ও ডাইনিং-এর খাবারের মান উন্নয়ন এবং দাম নিয়ন্ত্রণে প্রতি তিন দিন অন্তর মনিটরিং।
» দ্রুততম সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য অস্থায়ী আবাসনের উদ্যোগ এবং ১০টির অধিক স্থায়ী হল নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি জমাদান; পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাকে হল নির্মাণের জন্য প্রজেক্ট প্রপোজাল প্রদান।
» হল ও ফ্যাকাল্টিতে নামাজ ও উপাসনার জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ।
» স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে শিক্ষার্থীদের স্বল্পমেয়াদি ট্রেনিং, ক্রেডিট ট্রান্সফার ও উচ্চশিক্ষার (মাস্টার্স, পিএইচডি) সুযোগ সৃষ্টি।
» শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু এবং শিক্ষকদের দক্ষতা অনুযায়ী কোর্স বিন্যাস।
» সেন্ট্রাল হেলথ ফান্ড ও স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন; প্রতিটি হলে মিনি মেডিকেল স্টোর, ফার্স্ট এইড ও ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন।
» মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা; মা শিক্ষার্থী একাডেমিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ এবং প্রতিটি ফ্যাকাল্টিতে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন।
তিন দশকের বেশি সময় পর আবারও ভোটের উৎসব বসছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। আগামী ১৫ অক্টোবর একযোগে অনুষ্ঠিত হবে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২৭ হাজার। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৮৪ জন ছাত্র ও ১১ হাজার ৩২৯ জন ছাত্রী। চাকসু ও হল সংসদ মিলে মোট প্রার্থী ৯০৭ জন। এর মধ্যে চাকসুর ২৬টি পদের বিপরীতে লড়বেন ৪১৫ জন এবং হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪৮৬ জন প্রার্থী।