পুরোনো বালিশ থেকে বাড়তে পারে যেসব রোগের আশঙ্কা

পুরোনো বালিশ থেকে বাড়তে পারে যেসব রোগের আশঙ্কা

সংগ্রহীত ছবি

দিনশেষে নরম বালিশে মাথা রাখা মানেই স্বস্তির ঘুম। কিন্তু জানেন কি, প্রতিদিন ব্যবহার করা এই বালিশটাই হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর সব রোগের উৎস? চিকিৎসকদের মতে, পুরোনো বালিশ ধীরে ধীরে জমিয়ে ফেলে ধুলা, ঘাম, ত্বকের মৃত কোষ ও বিভিন্ন জীবাণু। এসব অদৃশ্য শত্রু আমাদের দেহে ডেকে আনতে পারে অ্যালার্জি, ত্বকের সমস্যা এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো জটিল অসুখ। চলুন, জেনে নিই।

অ্যালার্জি ও হাঁপানির ঝুঁকি
পুরোনো বালিশে ডাস্ট মাইট বা ধুলোর পোকা জমে। তারা মানুষের মৃত ত্বক খেয়ে বাঁচে এবং তাদের বর্জ্য থেকে হয় অ্যালার্জি। এর ফলে হতে পারে হাঁচি, কাশি, চোখ লাল হওয়া ও চুলকানো। যাদের হাঁপানি আছে, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

ত্বকের সমস্যা
ঘুমের সময় বালিশ সরাসরি মুখের সংস্পর্শে আসে। বালিশে জমে থাকা ঘাম, তেল ও ব্যাকটেরিয়া ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দেয়, ফলে দেখা দেয় ব্রণ, র‍্যাশ, একজিমা বা সংক্রমণ।

শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ
আর্দ্র ও উষ্ণ পরিবেশে বালিশের ভিতরে ছত্রাক জন্মাতে পারে, যেমন ‘অ্যাসপারজিলাস’। এর স্পোর শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়।

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য এটি খুব বিপজ্জনক।

ঘুমের ব্যাঘাত ও ব্যথা
পুরোনো বালিশ আকৃতি হারিয়ে দলা পাকিয়ে যায়। এতে ঘাড় ও কাঁধের সঠিক সাপোর্ট না মেলায় ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া বা মাথাব্যথা হতে পারে, যা ঘুমের মানও নষ্ট করে।

কবে বদলাবেন বালিশ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত প্রতি ১ থেকে ২ বছর অন্তর বালিশ বদলানো উচিত।
সিন্থেটিক ফাইবার: ১ বছরে বদলানো ভালো
তুলো বা ফোম: ১.৫–২ বছরে বদলান

বালিশ ভালো রাখার কিছু সহজ উপায়
১।

নিয়মিত পরিষ্কার করুন – প্রতি সপ্তাহে গরম পানিতে বালিশের কভার ধুয়ে ফেলুন। মাসে একবার বালিশ নিজেও পরিষ্কার করুন।
২। রোদে দিন – সপ্তাহে অন্তত একবার কড়া রোদে রাখুন বালিশ। এতে জীবাণু ও ডাস্ট মাইট ধ্বংস হয়।
৩। পিলো প্রোটেক্টর ব্যবহার করুন – এতে ধুলো ও ঘাম সরাসরি বালিশে পৌঁছাতে পারে না।