বাঁকখালী নদীতে কল্প জাহাজ ভাসা উৎসব যেন অসাম্প্রদায়িকতার মিলন মেলা

বাঁকখালী নদীতে কল্প জাহাজ ভাসা উৎসব যেন অসাম্প্রদায়িকতার মিলন মেলা

সংগ্রহীত ছবি

ফানুস উৎসবের পর এবার কক্সবাজারের রামুর বাঁকখালী নদীতে প্রবারণায় কল্প জাহাজ ভাসানোর আনন্দে মেতেছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়। অপূর্ব কারুকাজে তৈরি একেকটি দৃষ্টিনন্দন জাহাজ ভাসানো হয়েছে নদীতে। জাহাজগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে নদীর এপার থেকে ওপারে। সেই জাহাজে চলছে হাজারো প্রাণের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।

শুধু তাই নয়, নদীর দুই পাড়েও উৎসবে আনন্দে মেতেছে হাজারো নর-নারী।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) কক্সবাজারের রামুর বাঁকখালী নদীর পূর্ব রাজারকুল ঘাটে আয়োজন করা হয় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই কল্প জাহাজ ভাসানো উৎসব। যেখানে শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা না, নানা ধর্মের মানুষের অংশ গ্রহণে তা হয়ে উঠে অসাম্প্রদায়িকতার মিলন মেলা।

লোকে লোকারণ্য নদীর দুই পাড়ে গান-বাজনা, কীর্তন ও ফানুসে মেতে উঠেছে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ।

পাঁচ থেকে ছয়টি কাঠের নৌকার ওপর বসানো হয়েছে একেকটি কল্প জাহাজ। আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকাও দেখা গেল দুটি জাহাজে। পানিতে ভাসানো হয়েছে মোট ৭টি কল্প জাহাজ। মূলত বাঁশ, কাঠ, বেত ও রঙিন কাগজে রঙের কারুকাজে জাদি, হাঁস, ময়ূর, হাতিসহ বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

যা তৈরি করা হয়েছে এখানকার বৌদ্ধ মন্দির গুলোতে। চমৎকার নির্মাণশৈলী আর বৈচিত্র্যে ভরা প্রতিটি জাহাজে ফুটে উঠেছে বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস ঐতিহ্য। একই সঙ্গে এসব ভাসমান জাহাজে বৌদ্ধ কীর্তন চলছে। কেউ নাচছে, কেউ গাইছে, আবার কেউ ঢোল, কাঁসাসহ নানা বাদ্য বাজাচ্ছেন। শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখে মনে হবে এখনই যেন বাঁধ ভাঙবে!

আয়োজকেরা বলছেন, শত বছরের ঐতিহ্যকে ধারণ করে পুরো বিশ্বে ভগবান বুদ্ধের শান্তি বার্তা পৌঁছে দিতে এ বছরও আয়োজন করা হয়েছে কল্প জাহাজ ভাসা উৎসবের।

উৎসবে আসা একটি এনজিওতে কর্মরত জয়া বড়ুয়া বলেন, এটি আমাদের প্রাণের উৎসব। এ উৎসব বৌদ্ধদের হলেও প্রতি বছর এটি অসাম্প্রদায়িক মিলন মেলায় পরিণত হয়। এ সময় তিনি ফিলিস্তিনের নিরীহ মানুষের মুক্তি প্রার্থনা জানান।

এ উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, সবাইকে নিয়ে আমাদের পথ চলা। কোন দুষ্ট চক্র যাতে আমাদের ভালোবাসা, স্বকীয়তা, সম্প্রীতি, নষ্ট করতে না পারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।

আয়োজনের উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া। উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিথুন বড়ুয়া বোথামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সাবেক সাংসদ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান কাজল, বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান, জেলার পুলিশ সুপার সাইফুদ্দিন শাহীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাবু উদয় কুসুম বড়ুয়া, রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফানুল হক চৌধুরী প্রমুখ।