আফসোস ভুলে আত্মবিশ্বাসী মেয়েরা
সংগ্রহীত ছবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক : বড় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ নারী দল খেলার সুযোগ পায় কালেভদ্রে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ সেখানে একমাত্র ভরসা। সেই মঞ্চে পরশু রাতে ইংল্যান্ড নারী দলের বিপক্ষে জয়ের পরিস্থিতি তৈরি করেও ম্যাচটা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। জয় থেকে ইংলিশ মেয়েরা ১০১ রান দূরে থাকতে ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার পরও হাত ফসকে যাওয়া ম্যাচে নিজেদের ভাগ্যকেও দুষতে পারে বাংলাদেশ।
তবে সব এক পাশে রেখে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের আত্মবিশ্বাসটাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে দলের অন্দরমহলে।
বাংলাদেশের আক্ষেপের জায়গা হিদার নাইটের উইকেটটি নিয়ে। অপরাজিত ৭৯ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচটি একপ্রকার ছিনিয়ে নেন ইংলিশ ব্যাটার। তবে এই ব্যাটার আউট হতে পারতেন ১৩ রানে।
এখানেই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হন তৃতীয় আম্পায়ার গায়ত্রী বেণুগোপালান। ফাহিমা খাতুনের বলে কাভারে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে নাইটের নিচু হয়ে আসা ক্যাচটি নেন স্বর্ণা আক্তার। আউট ভেবে ব্যাটার নিজেই ড্রেসিংরুমে ফিরে যাচ্ছিলেন। ম্যাচ শেষেও নাইট জানান, তাঁর কাছে পরিষ্কার ক্যাচই মনে হয়েছিল, তাই হাঁটা ধরেছিলেন।
তবে তৃতীয় আম্পায়ার গায়ত্রীর ভাবনা ছিল ভিন্ন। তাঁর কাছে মনে হয়েছিল, স্বর্ণার আঙুল বলের নিচে ছিল না। তাই মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তিনি। তৃতীয় আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বেশ আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়ায় ম্যাচজুড়ে। এমনকি ম্যাচের শেষেও।
ফাহিমার কাছে এটি ম্যাচের ‘টার্নিং পয়েন্ট’। সিদ্ধান্তটি নিজেদের পক্ষে এলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হওয়ার সব রকম সম্ভাবনাই ছিল বলে মনে করেন এই লেগ স্পিনার। একটু আক্ষেপ থাকলেও এটি নিয়ে পড়ে থাকতে নারাজ দলের সঙ্গে থাকা প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ। তিনি বরং ছোট সংগ্রহ নিয়েও লড়াই চালিয়ে যাওয়াকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখতে চান সামনে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচে, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আসলে খুব বেশি কিছু বলার নেই। তবে হার নিয়ে অবশ্যই আফসোস আছে। ইংল্যান্ডের মতো এ রকম একটা দলের বিপক্ষে জয়ের অবস্থা থেকে হেরে যাওয়া কষ্টের। তবে ইতিবাচক ব্যাপার হচ্ছে, সামনের ম্যাচগুলোতে এটা দলকে অনেক আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’
মেয়েদের নতুন নির্বাচক এবং সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুনও একমত সাজ্জাদের সঙ্গে, ‘এই ধরনের ফাইটিং সিপরিট আসলে একটা দলকে অনেক উজ্জীবিত করে। আমার মনে হয়, এই সাহস মেয়েদের দরকার ছিল। সামনে তো আরো চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।’ আগামীকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশের মেয়েদের ব্যাটিংয়ের চিরায়ত দুর্বলতা ‘ডট’ বলের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে দুই নির্বাচকের কথায়।
বোলিংয়ে অবশ্য দুই ম্যাচেই আলো ছড়িয়েছেন মারুফা আক্তার। বিশেষ করে ইনসুইং ডেলিভারিতে নাকাল করছেন ব্যাটারদের। মোহাম্মদ আশরাফুলের কাছে মারুফার বোলিং যেন চোখের শান্তি, ‘ওর বোলিং দেখা অনেক তৃপ্তির। এটা ভেবে ভালো লাগে যে মেয়েদের দলে এ রকম একজন বিশ্বমানের পেসার আছে। ওর ইনসুইং ডেলিভারি বেশি বিপজ্জনক হওয়ার কারণ হলো বাতাসে তো সুইং করেই, সঙ্গে উইকেটে পড়ে আরো বেশি সুইং করে।’ পেশিতে টান পেয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মারুফার শেষ ৫ ওভার না পাওয়া ভুগিয়েছে বাংলাদেশকে। মারুফা না থাকলেও স্পিনারদের দায় দেখছেন আশরাফুল, ‘৫ উইকেট ফেলে দেওয়ার পর স্পিনাররা স্টাম্পের বাইরে অনেক বেশি বল করেছে। স্টাম্পে রাখলে রান করা সহজ হতো না।’ ভুলত্রুটি কাটিয়ে উঠতে গতকাল বিশ্রামের পর আজ অনুশীলন করবে বাংলাদেশ। কিউইদের বিপক্ষে ম্যাচে মারুফাকে পাওয়া নিয়েও আশাবাদী টিম ম্যানেজমেন্ট।.