বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন জিমন্যাস্টিকস বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন নরম সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তবে আয়োজক দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি সংস্থাটি।
শুক্রবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন জানায়, “আগামী ১৯ থেকে ২৫ অক্টোবর জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৫৩তম আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নিবন্ধিত ইসরায়েলি দলকে ভিসা না দেওয়ার ইন্দোনেশীয় সরকারের সিদ্ধান্ত আমরা লক্ষ্য করেছি। ইভেন্টটি আয়োজনের ক্ষেত্রে আয়োজক দেশের যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেটিও আমরা স্বীকার করছি।”
তবে বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন এর সংবিধানে থাকা সেই ধারা উল্লেখ করা হয়নি, যেখানে বলা আছে- যদি কোনো আয়োজক দেশ অংশগ্রহণকারী দেশকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে সেই দেশ থেকে ইভেন্ট সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন আরও জানায়, “আমরা আশা করি খুব শিগগিরই এমন এক পরিবেশ তৈরি হবে, যেখানে সারা বিশ্বের ক্রীড়াবিদেরা নিরাপদে ও নিশ্চিন্ত মনে খেলাধুলা উপভোগ করতে পারবেন।” ইসরায়েলি অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ ঘিরে ইন্দোনেশিয়ায় তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশটি বরাবরই ফিলিস্তিনের পক্ষের অন্যতম সমর্থক, ফলে সরকার ইসরায়েলি দলের ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেয়।
ইসরায়েল ৮৬টি নিবন্ধিত দেশের একটি, যারা এবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে চায়। দলের নেতৃত্বে আছেন ২০২০ অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী ও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্তেম ডলগোপিয়াত। তবে এখন ইসরায়েলের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন জুলাই মাসেই জানিয়েছিল, ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করেছে—তারা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে। কিন্তু এখন সরকারের সিদ্ধান্ত সে প্রতিশ্রুতির বিপরীত। দীর্ঘদিন ধরেই ইন্দোনেশিয়া কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে ইসরায়েলি দলকে স্বাগত জানায় না।
বৃহস্পতিবার দেশটির আইনমন্ত্রী ইউস্রিল ইহজা মাহেন্দ্রা স্পষ্টভাবে জানান, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলি দলকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। শুক্রবার জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোনেশীয় অলিম্পিক কমিটির সভাপতি রাজা সাপ্তা অক্টোহারি বলেন, “সরকারের সিদ্ধান্ত আমরা সম্মান করি। নিশ্চয়ই তারা নানা দিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
ইন্দোনেশীয় জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ইতা ইউলিয়াতি জানান, তিনি আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মোরিনারি ওয়াতানাবে-কে বিষয়টি অবহিত করেছেন। গাজায় যুদ্ধের মানবিক সংকট ঘিরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ক্রীড়া ও সংস্কৃতির জগতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এই ঘটনা তার সাম্প্রতিক উদাহরণ।
ইন্দোনেশিয়া এর আগেও ২০২৩ সালের ফুটবল অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারায়, কারণ দেশটি ইসরায়েলি দলের অংশগ্রহণে আপত্তি জানায়। তবে ফিফা তখন কোনো শাস্তি না দিয়ে বরং পরের বছর আরেকটি বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয় ইন্দোনেশিয়াকে—যেখানে ইসরায়েল যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ইন্দোনেশীয় ফুটবল প্রধান এরিক থোহির–এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই হয়তো সেই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছিল।