স্ত্রী-পরিবার রেখে কতদিন প্রবাসে থাকা যাবে

স্ত্রী-পরিবার রেখে কতদিন প্রবাসে থাকা যাবে

ছবি: সংগৃহীত

আমার নাম রুহুল আমিন। আমি ঢাকা জেলার দোহার থানার অধিবাসী। আমাদের এলাকার বেশির ভাগ পুরুষ অর্থ উপার্জনের জন্য বিদেশ থাকে। পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকেও বিদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু আমার সদ্যবিবাহিত স্ত্রী আমাকে বিদেশ যেতে দিতে রাজি নয়। আমার নিজেরও প্রবাস জীবন ভালো লাগে না। আমি জানতে চাই, স্ত্রী-পরিবার রেখে বিদেশে যাওয়া ও থাকার বিধান কি?

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, সাধারণ অবস্থায় স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া স্বামী চার মাস পর্যন্ত দূরে থাকতে পারে। কিন্তু এতদিন দূরে থাকলে যদি স্বামী বা স্ত্রীর ফেতনায় (নৈতিক স্খলন অর্থে) জড়িয়ে পড়ার প্রবল আশংকা থাকে, তবে স্ত্রীর অনুমতি থাকলেও দূরে থাকা জায়েজ নয়। আর যদি ফেতনায় জড়িয়ে পড়ার আশংকা প্রবল না হয়, বরং সাধারণ সম্ভাবনা থাকে, তবুও যথাসম্ভব স্বামী-স্ত্রীর দূরে থাকা পরিহার করা আবশ্যক। 

অনেক প্রবাসীকে দেখা যায়, তারা বছরের পর বছর অর্থ উপার্জনের জন্য দেশের বাইরে থাকে। অন্যদিকে স্ত্রী দেশে একা থাকে। এমন অবস্থায় স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের ফেতনায় জড়িয়ে পড়ার প্রবল আশংকা থাকে; আর যদি কোনো আশংকা নাও থাকে, তবুও স্ত্রীর অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ায় এভাবে বিদেশ থাকা বৈধ নয়। প্রবাসীদের উচিত, দেশের বাইরে এমন কাজ অনুসন্ধান করা যেন চার মাস পর পর দেশে ফেরার সুযোগ পাওয়া যায়। আর তা যদি সম্ভব না হয়, তবে স্ত্রীকে চাকরির জায়গায় নিয়ে যাওয়া উচিত। 

তারপরও যদি কোনো প্রবাসী এক-দুই বছর পর্যন্ত বিদেশ থাকতে বাধ্য হয়, তবে নিচের শর্তগুলো পূরণ করা আবশ্যক। তা হলো-

১. এই সময়ে স্ত্রীর বৈবাহিক অধিকারের (দৈহিক চাহিদাসহ অন্যান্য) অধিক আগ্রহ ও আসক্তি থাকতে পারবে না।

২. এই সময়ে স্বামী বা স্ত্রীর ফেতনায় জড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকবে না, চাই আশংকা বিশ্বাসের পর্যায়ে হোক বা প্রবল ধারণা হোক।

৩. স্ত্রীর অনুমতি থাকা।

৪. স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও সন্তানদের লালন-পালনের উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা।

বর্ণিত আছে, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এক রাতে এক নারীকে বলতে শোনেন, আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহর শাসি্তর ভয় না থাকত, তবে এই খাট পাশ থেকে সরিয়ে ফেলতাম। তিনি এই নারী সম্পর্কে খবর নিয়ে জানতে পারলেন তার স্বামী যুদ্ধের ময়দানে আছে। তিনি তার মেয়ে উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, একজন নারী কতদিন স্বামী ছাড়া থাকতে পারে? তিনি বললেন, চার মাস। তখন ওমর (রা.) সেনাপতিদের নির্দেশ দিলেন কোনো বিবাহিত পুরুষ যেন চার মাসের অধিক তার স্ত্রী থেকে দূরে না থাকে। এরপর তিনি বললেন, যদি নারীর সহ্যের সর্বোচ্চ সীমা চার মাস না হতো তবে আল্লাহ ‘ইলা'-এর বিধানে বিচ্ছেদের সময় চার মাস নির্ধারণ করতেন না। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৩/২০৩; মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭/১০৯)