ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন ‘অফিস সহকারী’ দিয়ে চলছে শিক্ষা অফিস!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন ‘অফিস সহকারী’ দিয়ে চলছে শিক্ষা অফিস!

সংগ্রহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে একজন ‘অফিস সহকারী’ দিয়ে চলছে উপজেলা শিক্ষা অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম। এতে শিক্ষা অফিসটির প্রশাসনিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নবীনগর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে মোট ২১৯টি। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৩৭০ জন শিক্ষক ও শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছেন।

শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলা শিক্ষা অফিসে কাগজে কলমে একজন উচ্চমান সহকারী,  একজন হিসাব সহকারী ও তিনজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোট এই ৫ জন থাকার কথা রয়েছে। 

কিন্তু কার্যত বর্তমানে শিক্ষা অফিসটিতে আবু হানিফ নামে মাত্র একজন অফিস সহকারী কর্মরত আছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অফিসটিতে ৫ জনের কাজ একজনে করতে গিয়ে অফিস সহকারী আবু হানিফ খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে আবু হানিফকে একাই বিভিন্ন কাজ করতে দেখা গেছে।

এসময় আবু হানিফ বলেন, ‘আর পারছি না ভাই। ৫ জনের কাজ একা একা আর সামলাতে পারছি না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাকে একা অফিস করতে হচ্ছে। ফলে কাজের চাপে দিন দিন খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ছি।

অন্যদিকে শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, বিশাল এই উপজেলায় থাকা ২১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১১টি ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে। এই ১১টি ক্লাস্টারের প্রতিটির জন্য একজন করে মোট ১১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও গোটা উপজেলায় কর্মরত আছেন মাত্র দুজন এটিইও। ফলে প্রয়োজনীয় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার অভাবে দুই শতাধিক বিদ্যালয়ের পাঠদান যথাযথভাবে মনিটরিংও (তদারকি) করা যাচ্ছে না। এতে করে সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলার আলীয়াবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম রেজাউল করিম সবুজ এ প্রতিবেদককে দুপুরে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা অফিসে ৫ জনের স্থলে মাত্র একজন হিসাব সহকারী কর্মরত থাকায়, প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিক্ষকের বিভিন্ন কাজসহ অফিসের সার্বিক কার্যক্রম একদম স্থবির হয়ে পড়েছে।

পাশাপাশি ১১ জনের স্থলে মাত্র দুজন এটিইও দিয়েও ২১৯টি স্কুলের পাঠদান কোনোভাবেই তদারকি করাও সম্ভব হচ্ছে না। তাই  আমরা দ্রুত এর প্রতিকার চাই।’

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান বুধবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আরো কিছুদিন হয়তো এ সমস্যা বিদ্যমান থাকবে। তবে আশা করছি, শিগগিরই সারা দেশে এসব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর সহসাই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।