মুমিন ও কাফেরের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য
মুমিন ও কাফেরের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য। ফাইল ছবি
আমি কে, কোথা থেকে এসেছি এবং কোথায় যাচ্ছি? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করে মানুষের বিশ্বাস ও জীবনদর্শন। কেউ এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজে আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী। আবার কেউ তা উপেক্ষা করে নিজ ইচ্ছার পথে চলে। এই বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের ব্যবধানই গড়ে দেয় মুমিন ও কাফেরের মৌলিক পার্থক্য। মুমিন শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। মুমিন ব্যক্তি মহান আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর প্রতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করেন এবং আল্লাহর বিধান ও রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেন। একজন মুমিনের পরিচয় শুধু বাহ্যিক ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার চরিত্র, আচরণ, বিশ্বাস ও কর্মের মধ্যে ইসলামের মূল্যবোধ প্রতিফলিত হয়। আর কাফের শব্দের অর্থ অস্বীকারকারী, অবিশ্বাসী। কাফের আল্লাহর ওপর ইমান আনে না এবং তার সঙ্গে অংশীদার স্থাপন করে।
মুমিন ও কাফেরের জীবনযাত্রা, চিন্তাধারা, লক্ষ্য ও পরিণতি একে অপরের বিপরীত। পবিত্র কোরআন বারবার এই দুই শ্রেণির মানুষের পার্থক্য তুলে ধরেছে। কারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে সফল হবে, আর কারা অনন্ত আফসোসে নিমজ্জিত হবে। মুমিন ও কাফেরের মধ্যে মৌলিক কয়েকটি পার্থক্য উল্লেখ করা হলো।
বিশ্বাস : মুমিন অদৃশ্য বিষয়াবলি তথা আল্লাহ, পরকাল, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদির প্রতি না দেখেই দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা অদৃশ্য বিষয়ের প্রতি ইমান রাখে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যা কিছু দিয়েছি, তা থেকে (আল্লাহ সন্তোষজনক কাজে) ব্যয় করে।’ (সুরা বাকারা ৩)
— নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথেই আছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে ও সৎকর্ম করে।
(সূরা নাহল ১৬:১২৮)
আর কাফের অদৃশ্য বিষয়াবলির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অবশ্যই তুমি এ দিবস সম্পর্কে উদাসীন ছিলে। অতএব আমি তোমার পর্দা তোমার থেকে উন্মোচন করে দিলাম। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি খুব প্রখর।’ (সুরা কাফ ২২)
মান্যতা : মুমিন শরিয়তের বিষয়াবলি স্বেচ্ছায় মানে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন তো তারা, যারা আল্লাহ ও তার রাসুলকে অন্তর দিয়ে স্বীকার করেছে। তারপর কোনো সন্দেহে পড়েনি এবং তাদের জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারাই তো সত্যবাদী।’ (সুরা হুজুরাত ১৫) আর কাফেররা স্বেচ্ছায় কোনো বিষয় মানে না, বরং বাধ্য হয়ে মানে। সেই কারণে কেয়ামতের দিন যখন আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হতে হবে, তখন তারা লজ্জিত হয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে থাকবে। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যদি তুমি দেখতে, যখন অপরাধীরা তাদের রবের সামনে মাথানত হয়ে থাকবে! (তারা বলবে) ‘হে আমাদের রব, আমরা দেখেছি ও শুনেছি। কাজেই আমাদেরকে পুনরায় পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। নিশ্চয় আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী।’ (সুরা সাজদা ১২)
মুমিনের আনন্দ ও কাফেরের আফসোস : কেয়ামতের দিন যখন কাফেরদের জাহান্নামে দেওয়া হবে, তখন তারা আফসোস করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর আমাদের দুর্ভাগ্য ছেয়ে গিয়েছিল এবং আমরা ছিলাম বিপথগামী সম্প্রদায়। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এখান থেকে উদ্ধার করুন। অতঃপর পুনরায় যদি আমরা সেই কাজই করি, তবে অবশ্যই আমরা হবো জালেম। আল্লাহ বলবেন, এখানেই তোমরা হীন অবস্থায় পড়ে থাকো এবং আমার সঙ্গে কথা বলো না।’ (সুরা মুমিনুন ১০৬-১০৮)
অপরদিকে কেয়ামতের ময়দানে মুমিনরা অত্যন্ত আনন্দিত হবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সেদিন জান্নাতবাসিরা আপন ব্যস্ততায় মগ্ন থাকবে। তারা ও তাদের স্ত্রীরা নিবিড় ছায়ায় আরামদায়ক আসনে হেলান দিয়ে থাকবে। সেখানে তাদের জন্য থাকবে ফলমূল এবং তারা যা কিছু ফরমায়েশ করবে তাই তারা পাবে। দয়াময় প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদেরকে সালাম জানানো হবে।’ (সুরা ইয়াসিন ৫৫-৫৮)
লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া কাশেফুল উলুম মাদ্রাসা, মধুপুর, টাঙ্গাইল