জান্নাতি পুরুষদের স্বাস্থ্য ও যৌবন যেমন হবে
ছবি: সংগৃহীত
দুনিয়ার প্রতিটি পুরুষই চায় সুঠাম দেহ, অটুট যৌবন ও অফুরন্ত শক্তি। কিন্তু এখানে তা অসম্ভব। বার্ধক্য ও মৃত্যুর করাল গ্রাস থেকে কারও মুক্তি নেই। তবে জান্নাতে রয়েছে এর প্রকৃত সমাধান- এক অনন্ত যৌবন ও পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যের জীবন।
১. আদর্শ উচ্চতা ও গঠন: আদম (আ.)-এর মতো ৬০ হাত উঁচু
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে তাঁর যথাযোগ্য গঠনে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর উচ্চতা ছিল ষাট হাত... যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা আদম (আ.)-এর আকৃতিবিশিষ্ট হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৬২২৭)
জান্নাতি পুরুষরা পাবে মানবজাতির পিতা আদম (আ.)-এর মতো নিখুঁত দৈহিক গঠন। অর্থাৎ, জান্নাতের পুরুষরা হবে দুনিয়ার যেকোনো মডেল বা বডিবিল্ডারের চেয়েও শতগুণ সুঠাম ও আকর্ষণীয়।
২. চিরতরুণ বয়স: ৩৩ বছরের অম্লান যৌবন
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, ‘জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশের সময় তাদের শরীরে লোম থাকবে না, দাঁড়ি-গোফও থাকবে না এবং চোখে সুরমা লাগানো থাকবে। তারা হবে ত্রিশ অথবা তেত্রিশ বছরের যুবক।’ (সুনান তিরমিজি: ২৫৪৫)
এছাড়াও রাসুল (স.) বলেছেন, ‘তার যৌবন কখনো শেষ হবে না।’ (সহিহ মুসলিম: ২৮৩৬)
জান্নাতি পুরুষরা চিরকাল ৩৩ বছর বয়সের যুবক থাকবেন। তাদের চেহারায় কোনো বার্ধক্যের ছাপ পড়বে না, চুল পাকবে না, চামড়া কুঞ্চিত হবে না।
৩. অফুরন্ত শক্তি: ১০০ পুরুষের সমান ক্ষমতা
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, ‘জান্নাতে প্রত্যেক মুমিনকে একশ জনের সমান সঙ্গমশক্তি প্রদান করা হবে।’ (সুনান তিরমিজি: ২৫৩৬)
এটি শুধু যৌনশক্তি নয়, বরং সার্বিক দৈহিক ক্ষমতার কথা। একজন জান্নাতি পুরুষ দুনিয়ার ১০০ জন শক্তিশালী যুবকের সমান শক্তি পাবেন।
৪. চিরসুস্থতা: কোনো রোগ-শোক নেই
রাসুল (স.) বলেছেন, ‘তোমরা এখানে সবসময় সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না; তোমরা স্থায়ী জীবন লাভ করবে, কখনো মরবে না।’ (সহিহ মুসলিম: ৭০৪৯)
জান্নাতে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক- কোনো রোগই থাকবে না। না শারীরিক রোগ, না মানসিক রোগ। শুধু অফুরন্ত এনার্জি এবং প্রাণচাঞ্চল্য।
৫. অক্ষয় সৌন্দর্য: পোশাকও হবে না পুরনো
রাসুল (স.) বলেছেন, ‘তার পোশাক কখনো পুরনো হবে না।’ (সহিহ মুসলিম: ৭০৪৮)
জান্নাতি পুরুষদের শরীরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত লোম, দাগ, ভাঁজ বা ত্রুটি থাকবে না। তাদের চেহারা হবে ক্রিস্টাল ক্লিয়ার এবং প্রাণবন্ত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তাদের চোখে সুরমা লাগানো থাকবে, যা সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
৬. মানবকল্পনার বাইরে নেয়ামত
আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলেছেন- আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন বস্তু প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোনো চোখ কখনও দেখেনি, কোনো কান শুনেনি এবং কোনো হৃদয় কল্পনাও করতে পারেনি।’ (সহিহ মুসলিম: ৬৮৭২)
৭. কোরআনের প্রতিশ্রুতি: চিরস্থায়ী জীবন
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তাদেরকে শুভ সংবাদ দিন যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত... তাদের জন্য তাতে থাকবে পবিত্র স্ত্রীগণ এবং তারা সেখানে হবে স্থায়ী।’ (সুরা বাকারা: ২৫)
প্রাসঙ্গিক শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা
এই আয়াত ও হাদিসগুলো এক মহামূল্যবান দিকনির্দেশনা। এগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়- দুনিয়ার জিম, ডায়েট কিংবা স্কিনকেয়ার-কিছুতেই যে স্বপ্ন পূরণ হয় না, তা আল্লাহ দেবেন জান্নাতে। পৃথিবীর ক্লান্তি, রোগ, বার্ধক্য ও দুঃখের মাঝেও জান্নাতের আশায় ধৈর্য ধরতে হবে। এই দুনিয়ার সামান্য ত্যাগই হবে পরকালের অনন্ত পুরস্কারের বিনিময়।
জান্নাতের জীবন হবে এক অনন্ত প্রভাতের মতো; যেখানে প্রতিটি দিন নতুন, প্রতিটি মুখ দীপ্তিময়, প্রতিটি হৃদয় প্রশান্ত। সেখানে থাকবে না মৃত্যু, না বার্ধক্য, না বিষণ্নতা; থাকবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির আলো। হে আল্লাহ! আমাদের জান্নাতুল ফিরদাউসে প্রবেশ করান। হে রব, আমাদের আমলগুলোকে জান্নাতের উপযুক্ত করুন এবং আমাদের সেই অনন্ত তরুণ জান্নাতিদের দলে অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।