ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রুশ বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা ইউক্রেন-যুক্তরাজ্যের
ফাইল ছবি।
রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী একটি বিমান ইউক্রেন ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মস্কো।তবে দুই দেশের বিমান ছিনতাইয়ের ওই চেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে রাশিয়া।
ক্রেমলিন বলেছে, ইউক্রেন ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ ষড়যন্ত্র ভণ্ডুল করে দেওয়া হয়েছে। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ওই দুই দেশ অতিদ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সামরিক বিমান ছিনতাই করে রোমানিয়ায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। ইউক্রেন-যুক্তরাজ্যের এই প্রচেষ্টাকে ‘‘বৃহৎ উসকানিমূলক পদক্ষেপ’’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছে মস্কো।
২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে রাশিয়া নিয়মিতই কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে রুশ ভূখণ্ডে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ করে আসছে। যদিও মস্কো এমন অভিযোগের ঘটনায় কোনও ধরনের প্রমাণ তুলে ধরেনি।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি বলেছে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও তাদের ব্রিটিশ তত্ত্বাবধায়কদের পরিচালিত একটি অভিযান উদ্ঘাটন ও ব্যর্থ করে দিয়েছে এফএসবি। রুশ সামরিক বাহিনীর অতিদ্রুতগতির আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রুশ মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান চুরি করা ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য।
এফএসবি বলেছে, রুশ পাইলটদের তিন মিলিয়ন ডলার ও একটি পশ্চিমা দেশের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়োগের চেষ্টা করছিল কিয়েভ। রাশিয়ার দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানটি কৃষ্ণসাগরের তীরে অবস্থিত ন্যাটো ঘাঁটি কনস্টান্টায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। পরে সেটিকে সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘‘ভূপাতিত’’ করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
রুশ এই গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, ইউক্রেন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বৃহৎ উসকানিমূলক এই পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এফএসবির ভিডিওতে দেখা যায়, মুখ ঢাকা এক রুশ সৈনিক বলছেন, তিনি ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক এজেন্টের কাছ থেকে ই-মেইল পেয়েছিলেন; যিনি তাকে এই ষড়যন্ত্রে অংশ নিতে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনার প্রতিশোধে রুশ বাহিনী কিয়েভ ও খমেলনিতস্কি অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা কার্যালয়ে ও একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় বলে জানিয়েছে এফএসবি।
প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়া একাধিক নাশকতামূলক হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির রেল নেটওয়ার্কে কয়েকবার হামলা হয়েছে। ইউক্রেনের হয়ে এসব কাজে লিপ্ত থাকায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় অনেককে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ডও দিয়েছে মস্কো
২০২৩ সালের আগস্টে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর একটি মি-৮ উড়োজাহাজ ইউক্রেনে প্রবেশ করে দেশটিতে আত্মসমর্পণ করে। কিয়েভের গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্বাধীন একটি অভিযানের অংশ হিসেবে পাইলট আত্মসমর্পণ করেছিলেন বলে জানিয়েছিল রাশিয়া।
সেই সময় কিয়েভ ও মস্কো উভয় পক্ষই বলেছিল, পাইলটের সহকর্মীরা তার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন না এবং পালানোর চেষ্টা করার সময় তিনি নিহত হন। পরে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওই উড়োজাহাজের পাইলট ম্যাক্সিম কুজনিমভকে স্পেনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।