জেনে নিন সয়াবিন কাদের জন্য ক্ষতিকর
ছবিঃ সংগৃহীত।
সয়াবিনকে অনেকেই ‘সুপারফুড’ হিসেবে গণ্য করেন থাকেন। বিশেষত নিরামিষাশীদের মধ্যে এই খাবারের জনপ্রিয়তা রয়েছে।এটি প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে।
কিন্তু সয়াবিনের কিছু উপাদান রয়েছে, যা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।
তাই সবার জন্য এটি উপকারী নাও হতে পারে। কারা সয়াবিন খাবেন না বা সয়াবিন খেলে কাদের সমস্যা হতে পারে, চলুন জেনে নেওয়া যাক—
থাইরয়েডের সমস্যায়
সয়াবিন সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি করে থাইরয়েডের রোগীদের জন্য। কেননা, সয়াবিনে গয়ট্রোজেন নামক যৌগ থাকে। এই যৌগগুলো থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যকারিতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়।
ফলাফল : যারা হাইপোথাইরয়েডিজমের জন্য ওষুধ খান, তাদের শরীরে এই গয়ট্রোজেন থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন আরো কমাতে পারে বা ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে। তাই থাইরয়েডের রোগীরা সয়াবিন খাওয়ার বিষয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
সয়াবিনে অ্যালার্জি
সয়াবিন বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ আটটি খাদ্য অ্যালার্জেন বা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের মধ্যে একটি। সয়াবিন খেলে যদি কারো ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি, পেট ব্যথা, বমিভাব বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তবে সয়াবিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত।
কিডনিতে পাথর
যাদের বারবার কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের সয়াবিন খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা, সয়াবিনে অক্সালেট নামক যৌগের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। শরীরের অতিরিক্ত অক্সালেট ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে।
হরমোন-সংবেদনশীল ক্যান্সারের ঝুঁকি
সয়াবিনে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোইস্ট্রোজেন বা আইসোফ্ল্যাভোনস থাকে। এই যৌগগুলো মানবদেহের ইস্ট্রোজেন হরমোনের মতো কাজ করে।
যদিও গবেষণায় মিশ্র ফলাফল রয়েছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, যেসব রোগীর ইস্ট্রোজেন-সংবেদনশীল ব্রেস্ট ক্যান্সার বা অন্য কোনো হরমোন-নির্ভর ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছে বা ঝুঁকি আছে, তাদের সয়াবিন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ সীমিত করা উচিত।
হজমজনিত সমস্যা
অনেকের হজম তন্ত্র সয়াবিনের প্রোটিন ও ফাইবার সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। অতিরিক্ত সয়াবিন খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা পেটের অন্যান্য অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সয়া দুধ বা সয়া প্রোটিন আইসোলেট দ্রুত এই সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।