লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে বললেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধান

লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে বললেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধান

সংগ্রহীত ছবি

ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে ওঠা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের আরও সচেতন ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা প্রধান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই বাস্তবতায় শুধু সেনাবাহিনী নয়, পুরো জাতিকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

সোমবার লন্ডনে এক বক্তব্যে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান রিচার্ড নাইটন বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি তার দীর্ঘ কর্মজীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার মতে, প্রতিরক্ষা জোরদার মানে শুধু সামরিক শক্তি বাড়ানো নয়। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের মানসিক দৃঢ়তা ও প্রস্তুতিও জরুরি। তিনি বলেন, প্রয়োজনে দেশের জন্য আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসতে হতে পারে।

নাইটন জানান, ভবিষ্যতে নিয়মিত সেনাসদস্যের পাশাপাশি রিজার্ভ বাহিনী ও ক্যাডেটদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে অনেক পরিবার সরাসরি বুঝবে দেশের জন্য ত্যাগের অর্থ কী। প্রতিরক্ষা খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে নতুন করে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এই অর্থে গড়ে তোলা হবে ডিফেন্স টেকনিক্যাল এক্সিলেন্স কলেজ, যেখানে প্রতিরক্ষা–সম্পর্কিত দক্ষতা শেখানো হবে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের নতুন গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬–এর প্রধান ব্লেইজ মেট্রেভেলি বলেছেন, রাশিয়ার আগ্রাসী নীতির কারণে বিশ্ব এখন এক ধরনের অনিশ্চয়তার যুগে প্রবেশ করেছে। তিনি জানান, সরাসরি যুদ্ধ ছাড়াও সাইবার হামলা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত এবং ভয় দেখানোর মতো কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। এটিকে তিনি ‘গ্রে জোন’ পরিস্থিতি বলে উল্লেখ করেন (যুদ্ধ ও শান্তির মাঝামাঝি অবস্থা)।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ভাবনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকার মনে করছে, ভবিষ্যতের হুমকি শুধু সীমান্তে নয়—ডিজিটাল দুনিয়াসহ সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে।