মুন্সীগঞ্জে কবুতর চুরির অভিযোগে শিক্ষার্থী নির্যাতন, অভিযুক্ত আটক
প্রতিকি ছবি
মুন্সীগঞ্জ সদরে কবুতর চুরির সন্দেহে বর্বর কায়দায় চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বুকের উপর উঠে পা দিয়ে পাড়ানোর ঘটনায় অভিযুক্ত বাবুকে ( ৪০) আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার (২১ শে ডিসেম্বর) কবুতর চুরির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
এ ঘটনায় ভিডিওতে থাকা মূল অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশু মো. নিরব (১৩) সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওসার নয়াবাড়ি এলাকার নাজিম শেখের পুত্র ও স্থানীয় সুখবাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আটককৃত বাবু (৪০) একই এলাকার মৃত মঞ্জু মিয়ার পুত্র।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের তথ্য সূত্রে জানা যায়, মারধরের শিকার শিশু ও অভিযুক্ত দুইজন উভয়ই কবুতর পালন করে। গত ১৩ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে দেওসার এলাকায় বাবুর বাড়িতে নিজের হারানো কবুতর খুঁজতে যায় নিরব। এসময় বাবু (৪০) ও আরাফাত (২৫) পুরোনো আক্রোশের জেরে নিরবকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এরপর কিল-ঘুষি, লাথি ও লোহার ডান্ডা দিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে তারা শিশুটির বুকের ওপর উঠে পা দিয়ে চাপ দেয় এবং মাথা দেওয়ালে ঠুকে দেয়। নিরব ডাক-চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা খবর দেন। পিতা নাজিম শেখ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, তার ছেলেকে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করলে অভিযুক্তরা তাকেও হুমকি দেন। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৪ ডিসেম্বর সকালে অভিযুক্তরা আবার নাজিমের বাড়িতে গিয়ে থানায় মামলা করলে ছেলেকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
পরে নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী বাবা নাজিম শেখ ছেলেকে মারধরের ঘটনায় সদর থানায় গত ১৫ ডিসেম্বর দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। রবিবার (২২ ডিসেম্বর) নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাতে অভিযুক্তর নিজ বসতবাড়ি থেকে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।
মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।