শীতের গভীর রাতে মহাজাগতিক সৌন্দর্য, উল্কাদের বিদায়ী নাচ

শীতের গভীর রাতে মহাজাগতিক সৌন্দর্য, উল্কাদের বিদায়ী নাচ

সংগ্রহীত ছবি

শীতের গভীর রাত। চারপাশে নীরবতা, কেবল হিমেল বাতাসের মৃদু স্পর্শ। এমন রাতে যদি মাথা তুলে তাকান, চোখের সামনে মিলতে পারে বছরের শেষ আকাশি বিস্ময়—উরসিড উল্কাবৃষ্টি। ডিসেম্বরের শেষ ভাগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা যেন প্রকৃতির নীরব বিদায়ী উৎসব, যা আকাশপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য আনন্দের উপলক্ষ।

১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া উরসিড উল্কাবৃষ্টি চলবে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত, তবে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ দৃশ্য দেখা যাবে ২১ ডিসেম্বরের গভীর রাত থেকে ২২ ডিসেম্বরের ভোর পর্যন্ত। এ সময়টি আবার শীতকালীন অয়নান্তের কাছাকাছি—উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে দীর্ঘ রাত। তাই আকাশ দেখার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হয় না।

এই উল্কাবৃষ্টির নাম এসেছে উরসা মাইনর বা ছোট ভালুক নক্ষত্রমণ্ডল থেকে। এখান থেকেই উল্কাগুলো ছুটে আসতে দেখা যায়। এর উৎস ধূমকেতু 8P/Tuttle—যার ফেলে যাওয়া ধূলিকণা ও পাথরের টুকরো পৃথিবীর কক্ষপথে এসে মিশে যায়। পৃথিবী যখন এই ধূলিকণার ভেতর দিয়ে ছুটে চলে, তখনই আকাশে আলোর রেখা টেনে উল্কারা নাচতে থাকে।

গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০টি উল্কা দেখা যেতে পারে। সংখ্যায় কম হলেও এ বছর দেখার পরিবেশ বেশ অনুকূল। কারণ, উল্কাবৃষ্টির সময় চাঁদ থাকবে প্রায় নতুন চাঁদের অবস্থায়। ফলে চাঁদের আলো আকাশ ঢেকে দেবে না, উল্কার ঝলকানি হবে আরও স্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উল্কা দেখার সেরা সময় হলো গভীর রাত থেকে ভোরের আগে পর্যন্ত। শহরের আলো থেকে দূরে, খোলা ও অন্ধকার জায়গা বেছে নিন। চোখ অন্ধকারে অভ্যস্ত হতে ২০–৩০ মিনিট সময় দিন। টেলিস্কোপ বা দূরবীন দরকার নেই—খালি চোখেই দেখা যাবে এই মহাজাগতিক সৌন্দর্য।

বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক জায়গায় উরসিড দেখা কিছুটা কঠিন হলেও পরিষ্কার আকাশ আর ধৈর্য থাকলে শীতের রাতে এই শেষ উপহার উপভোগ করা সম্ভব। বছরের শেষ প্রান্তে প্রকৃতির এই নীরব আলোছটা যেন মনে করিয়ে দেয়—অসীম মহাকাশে আমাদের ক্ষুদ্র অস্তিত্বও কতটা বিস্ময়ময়।