হাড় কাঁপানো শীত নিয়ে যা বলছেন আবহাওয়াবিদ
সংগ্রহীত ছবি
পৌষের শুরুতেই প্রকৃতিতে জেঁকে বসেছে হাড় কাঁপানো তীব্র শীত। উত্তুরে হাওয়ার ঝাপটায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে ভোরের সূর্য। আর হিমেল বাতাসের দাপটে কাবু হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জনপদগুলোতে জেঁকে বসা এই কনকনে ঠান্ডায় খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা খোঁজার চেষ্টা করছে ছিন্নমূল মানুষ। রাজধানী ঢাকাতেও তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।
শুক্রবার দেশজুড়ে শীতের এই তীব্র রূপ দেখা গেছে, যেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক সংবাদমাধ্যমকে জানান, শীতের তীব্রতা এবার সাধারণের চেয়ে কিছুটা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য যদি ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আসে, তবে শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। আর এই পার্থক্য যদি ৫ ডিগ্রির নিচে নামে, তবে হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হয়।
বর্তমানে রংপুর, দিনাজপুর ও তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার এই পার্থক্য ১০ ডিগ্রির নিচে থাকায় সেখানে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি ঢাকা, বগুড়া ও সিলেটেও এই পার্থক্য ১৩ ডিগ্রির নিচে নেমে এসেছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য বলছে, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। যদিও আজ রাত থেকে তাপমাত্রা সাময়িকভাবে সামান্য বাড়তে পারে, তবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে আবারও নতুন উদ্যমে হানা দেবে শীতের দাপট। তখন দুই থেকে তিন দিন তীব্র শৈত্য প্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে।
কুয়াশার ঘনত্বের কারণে নৌপথ ও সড়কপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে চালকদের। হিমেল হাওয়ায় জবুথবু বৃদ্ধ ও শিশুরা ভুগছেন নানা শীতজনিত রোগে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, সামনের কয়েকটা দিন প্রকৃতির এই শীতল লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।