গোয়াহরি বিলে ফিরল ঐতিহ্যের ‘পলো বাওয়া’ উৎসব
সংগৃহীত ছবি
পৌষের হিমেল ভোরে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে উৎসবে রঙে রাঙা হয়ে উঠল সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার গোয়াহরি বড়বিল। শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসবকে ঘিরে বিলপাড়ে জড়ো হন গ্রামের হাজারো মানুষ। বৃহস্পতিবার বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের বড়বিলে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন গ্রামবাসী। নির্দিষ্ট সময়ে সবাই পলো, উড়ালজাল, টেলা জাল, টানা জাল, ছিটকি জাল ও কুচা নিয়ে একত্রিত হন বিলের পাড়ে। তারপর একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন পানিতে। মুহুর্তেই দেখা মিলে বড় বড় মাছের। কয়েক ঘণ্টা চলে মাছ শিকার। ধরা পড়ে বোয়াল, রুই, কাতলা, ঘনিয়া, বাউশ, শোলসহ নানা প্রজাতির মাছ। টেলা আর ছিটকি জালে আটকা পড়ে বিলে জন্ম নেয়া হরেক রকম সুস্বাদু মাছ। কারও হাতে বড় বোয়াল কারও ঝুড়িতে ঝলমলে রুই-কাতলা।
উৎসব দেখতে বিলপাড়ে ভিড় করেন নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ। প্রবাসে থাকা অনেকেই বিশেষভাবে এই উৎসব উপলক্ষে গ্রামে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের সঙ্গে দেখা, পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন আর মাছ ধরার আনন্দে গোয়াহরি বড়বিল পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
পলোতে বড় বোয়াল ধরতে পেরে উচ্ছ্বসিত যুবক রাজু আহমদ বলেন, নিজের হাতে এত বড় বোয়াল ধরতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে। আজ সবাই মাছ পেয়েছে।
উৎসব দেখতে যুক্তরাজ্য থেকে আসা প্রবাসী হাজী মো. তৈমুছ আলী বলেন, গ্রামের মানুষ আনন্দের সঙ্গে মাছ ধরছে- এই দৃশ্য দেখতেই দেশে আসা। বসে বসে পলো বাওয়া উৎসব উপভোগ করছি, খুব ভালো লাগছে।
আরেক প্রবাসী হাজী মো. আবদুল বারী বলেন, এই উৎসব দেখার জন্যই আমাদের দেশে ফেরা। এটি আমাদের জন্য পরমানন্দের।
আয়োজক কমিটির সদস্য গোলাম হোসেন মেম্বার বলেন, “আমাদের গ্রামের গোয়াহরি বড়বিলে প্রতিবছরই এই পলো বাওয়া উৎসব পালন করা হয়। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক। যুগ যুগ ধরে আমরা এই উৎসব ধরে রেখেছি। আনন্দের পাশাপাশি এটি আমাদের গর্বের বিষয়।”