স্বীকৃতির পর সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সোমালিয়ার তীব্র নিন্দা

স্বীকৃতির পর সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সোমালিয়ার তীব্র নিন্দা

সংগ্রহীত ছবি

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার মঙ্গলবার সোমালিল্যান্ড পৌঁছেছেন। সোমালিল্যান্ড হলো সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল, যাকে সম্প্রতি ইসরায়েল স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, গিডিয়ন সারের নেতৃত্বে একটি ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল রাজধানী হারগেইসায় অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বাগত জানান।

সফরের সময় তিনি সোমালিল্যান্ডের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে গিডিয়ন সারকে সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহির সঙ্গে দেখা গেছে। এদিকে সোমালিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। 

মন্ত্রণালয় বলেছে, এই সফর সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার সরাসরি লঙ্ঘন।

সোমালিয়ার সম্মতি ছাড়া কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ অবৈধ এবং এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলেও জানানো হয়।

সোমালিয়া জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় পাশে দাঁড়ায়। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগও। পরে মঙ্গলবার গিডিয়ন সার বলেন, সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া ইসরায়েলের জন্য একটি নৈতিক সিদ্ধান্ত।

 

তিনি বলেন, জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রথম হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পেরে ইসরায়েল গর্বিত।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত মাসে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এটিই গিডিয়ন সারের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। আই২৪ নিউজের বরাতে সোমালিল্যান্ডের এক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এই সফরের লক্ষ্য ইসরায়েল ও সোমালিল্যান্ডের মধ্যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করা।

ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ। এই সিদ্ধান্তের কারণে সোমালিয়াসহ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের সমালোচনা করেছে।

নেতানিয়াহু বলেন, এই ঘোষণা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

তিনি জানান, কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক খাতে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চায় ইসরায়েল। ১৯৯১ সালে সোমালিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সোমালিল্যান্ড কার্যত স্বশাসিত এবং তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়নি।

সোমালিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে লবিং করে আসছে, যাতে কোনো দেশ সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি না দেয়। আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ বলেন, সোমালিল্যান্ড সোমালিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

সূত্র: আল-অ্যারাবিয়া ইংলিশ।