নবীনগরে মেঘনা নদীতে অভিযানে ড্রেজার-বাল্কহেড জব্দ, গ্রেপ্তার পাঁচ

নবীনগরে মেঘনা নদীতে অভিযানে ড্রেজার-বাল্কহেড জব্দ, গ্রেপ্তার পাঁচ

সংগ্রহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অবৈধভাবে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে বাল্কহেড চালকসহ ৫ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় ২টি ড্রেজার ও ২টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়। তবে বালু মহালের সঙ্গে জড়িত মালিক পক্ষের কেউই এ অভিযানে ধরা পড়েনি।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) উপজেলার মেঘনা নদীর চরলাপাং এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে যৌথ বাহিনীর সহযোগিতায় এ অভিযান চালানো হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন পটুয়াখালির বাসিন্দা ড্রেজার চালক মো. শহীদুল ইসলাম (৫০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা ইনফরম্যান্ট মো. আকবর খান (২৩), পটুয়াখালির বাল্কহেড চালক মো. মিজান মিয়া (২৬), পিরোজপুরের বালু শ্রমিক শরীফ মিয়া (২৮) ও ভোলার বালু শ্রমিক জামাল মিয়া (২৬)।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারদের সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে জেল দেওয়া হয়। এরমধ্যে কাউকে সর্বোচ্চ ৬ মাস ও কাউকে সর্বনিম্ন ১ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের এডিএম তাহমিনা আক্তার রাতে কালের কণ্ঠকে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বালু মহালের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নবীনগর উপজেলার উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মেঘনা নদী থেকে ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে মাত্রাতিরিক্ত খননযন্ত্রের (ড্রেজার) মাধ্যমে দিনে ও রাতে সমানতালে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। এতে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো প্রচণ্ড ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর উপজেলার চর লাপাং এলাকার মেঘনা নদীতে প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার ও এম কায়সার।

এ সময় সেনাবাহিনী, জেলা পুলিশ ও নৌপুলিশ ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন।

এ অভিযানকে স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়ে তা অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ অভিযান নিয়ে স্থানীয় এক প্রবীণ সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানকে আমরা সবসময়ই স্বাগত জানাই। কিন্তু কষ্ট পাই তখনই, যখন দেখি বারবার পরিচালিত এসব ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সরকারি নিয়ম নীতি লঙ্ঘন করে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত মালিকদের কেউই ধরা না পড়ে, কেবল দূর-দূরান্ত থেকে চাকরি করতে আসা গরিব শ্রমিকরাই কেবল ধরা পড়ে!

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) শারমিন আক্তার জাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমাদের এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততা অনেক।

নির্বাচনের পর এসব অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।