গতি ১৫০-এর উপরে রেখো—নাহিদ রানাকে ওয়াকার ইউনিস

গতি ১৫০-এর উপরে রেখো—নাহিদ রানাকে ওয়াকার ইউনিস

সংগ্রহীত ছবি

রংপুর রাইডার্সের পেস সেনসেশন নাহিদ রানা খুব বেশি কথা বলেন না। মাঠে বলই তার ভাষা। শনিবার বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে বিধ্বংসী স্পেলে ৩ উইকেট ১১ রান দিয়ে সেটাই আবার প্রমাণ করলেন এই তরুণ গতিতারকা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনেও নাহিদ ছিলেন স্বল্পভাষী।

তার চোখে-মুখে ছিল একটাই লক্ষ্য, দলের জয়ে প্রভাব রাখা। ব্যক্তিগত আলোচনা বা প্রশংসা তার কাছে যেন বাড়তি বিষয়।

সংবাদ সম্মেলন শেষে নাহিদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক বিশেষ মুহূর্ত। ধারাভাষ্য কক্ষে তাকে ডেকে নেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার ওয়াকার ইউনিস।

তরুণ বাংলাদেশি পেসারকে নিয়ে এক ধরনের ‘মাস্টারক্লাস’ই বসিয়ে দেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি।

 

ওয়াকার ইউনিস শুরুতেই নাহিদের মানসিকতা জানতে চান। ‘তুমি কি উপভোগ করছ?’—ওয়াকার প্রশ্ন করেন। রানা নীরবে হাসিমুখে মাথা নাড়েন।

জানান তিনি খেলাটা উপভোগ করছেন। উত্তরে ওয়াকার বলেন, ‘যদি উপভোগ করো, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উপভোগ করো, জোরে বল করো—এইটাই সব।’

নিজের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমি শুধু খেলতে চাই এবং ইমপ্যাক্ট রাখতে চাই। বাকিটা আল্লাহর ওপর।

যা রিজিক হিসেবে লেখা আছে, সেটাই হবে।’

ওয়াকার জবাব দেন, ‘ক্রিকেট নিয়ে ভাবার এটাই সেরা পদ্ধতি।’

 

এই মানসিকতাকেই ক্রিকেটের জন্য আদর্শ বলে মনে করেন ওয়াকার ইউনিস। তবে পুরো আলোচনায় তিনি সবচেয়ে বেশি জোর দেন এক জায়গায়, গতি।

‘তুমি ১৫০ কিলোমিটার গতির বোলার। এই গতিই তোমার পরিচয়,’ বলেন ওয়াকার। ‘এটা হারাবে না। যদি ১৩৫-এ নেমে যাও, তাহলে তুমি মিডিয়াম পেসার হয়ে যাবে।’

নিজের অভিজ্ঞতার কথাও টেনে আনেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। ইমরান খানের অধীনে খেলার সময় কীভাবে সবসময় ১৫০ কিমি গতিতে বল করতে হতো, সেই গল্প শুনিয়ে নাহিদকে সাহসী থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

নাহিদ জানান, তার স্বাভাবিক অস্ত্র আউটসুইং। ওয়াকার সঙ্গে সঙ্গে বলেন, ‘এইটাই তোমার শক্তি। এটা কখনো বদলাবে না।’

তরুণ পেসার আরো জানান, ছোটবেলা থেকে তিনি একজনের কথাই শোনেন, তার কোচ আলমগীর কবিরের। অনেকের নানা পরামর্শ থাকলেও তিনি নিজের স্বকীয়তা ধরে রাখতেই বিশ্বাসী।

নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো প্রসঙ্গে নাহিদের স্পষ্ট কথা, ‘শুরুর দিকে কন্ট্রোল ছিল না। সবাই বলত গতি কমাতে। আমি শুনিনি।’

এই জায়গাতেই ‘ওভার কোচিং’-এর বিরুদ্ধে সতর্ক করেন ওয়াকার ইউনিস। ‘বেশি শেখাতে গিয়ে অনেক প্রতিভাকে মিডিয়াম পেসারে পরিণত করা হয়। জোরে বল করো, বাকি সব সময়ের সঙ্গে চলে আসবে।’

সবশেষে ক্রিজ ব্যবহারের কৌশল নিয়ে পরামর্শ দিলেও ওয়াকারের মূল বার্তা ছিল একটাই,  ‘গতি কখনো কমানো যাবে না।’