নীলফামারীতে তিস্তা সেচ খাল ভেঙে শতাধিক একর ফসলি জমি প্লাবিত

নীলফামারীতে তিস্তা সেচ খাল ভেঙে শতাধিক একর ফসলি জমি প্লাবিত

ফাইল ছবি

নীলফামারীর ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামে তিস্তা সেচ ক্যানেলের দিনাজপুর খালের বাঁধ ভেঙে শতাধিক একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কামারপাড়া এলাকায় ক্যানেলের ডানপাড়ের বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০ ফিট এলাকায় পানি প্রবাহ শুরু হয়। ফলে সরিষা, বোরো চারা, ভুট্টা, আলু ও অন্যান্য রবি শস্য পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুর রহিম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ১৫ জানুয়ারি থেকে তিস্তা সেচ প্রকল্প থেকে পানি দেওয়া শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, সেচের পানি পেয়ে কৃষকরা বোরো চারা রোপণ ও বিভিন্ন ফসলে সেচ দিচ্ছিলেন। এ সময় বাঁধ ভেঙে আমার জমিসহ পাশ্ববর্তী শতাধিক একর জমি প্লাবিত হয়ে গেছে।

অন্য কৃষক রমজান আলী অভিযোগ করেন, ঘটনার পর নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবিলম্বে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ক্যানেল প্রতি বছর শুধু নামমাত্র সংস্কার করা হয়। ফলে প্রতি বোরো মৌসুমে বাঁধ ভাঙনের ঘটনা ঘটে।

শরিফ ইসলাম জানান, এর আগে ২০১৫ ও ২০২৪ সালেও ক্যানেলের বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছিল, যার ফলে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নীলফামারী-পঞ্চপুকুর সড়ক অবরোধ করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করে। সেখানে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান গেলে কৃষকরা বিক্ষোভ দেখান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণ ছিল ক্যানেলের পাশে ঈঁদুরের গর্ত। সেচের পানি ছাড়ায় ওই স্থানে পাড় ২০ ফিট বিধ্বস্ত হয়েছে। আমরা দ্রুত মেরামত করে সেচ কার্যক্রম পুনরায় চালু করব। তবে রংপুর ও বগুড়া ক্যানেলে সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।