নেত্রকোনায় স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
প্রতিকি ছবি
নেত্রকোনায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী রুক্কু মিয়াকে হত্যার দায়ে স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে (২৮) মৃত্যু দণ্ডাদেশ দিয়েছেন নেত্রকোনার দায়রা জজ আদালত।
আজ সোমবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে হাজতির উপস্থিতিতে এ রায় দেন দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম মুন মুঞ্জুরি। বিচারক একই সাথে রুবিনা আক্তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ মে ঈদের দিন বাবার বাড়ি ডেকে নিয়ে রাতে স্বামী রুক্কু মিয়াকে মাথায় কুঠার দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে আসামি। এ ঘটনায় রুক্কু মিয়ার ছোট ভাই আসাদ মিয়া বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় ভাইয়ের স্ত্রীকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশি তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দিলে ১১ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবুল হাসেম মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে জানান, ঘটনার ১০ বছর পূর্বে পূর্বধলা উপজেলার রুক্কু মিয়ার সাথে কলমাকান্দা উপজেলার রুবিনা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। রুক্কু মিয়া চাকরির সুবাদে ঢাকার গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ থাকায় হত্যাকাণ্ডের একমাস পূর্বে রুবিনা আক্তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করে কলমাকান্দার কৈলাটি গ্রামে বাবার বাড়ি চলে আসেন। পরে ঈদের ছুটিতে রুক্কু মিয়া নিজ বাড়ি জেলার পুর্বধলায় আসেন। এরপর সন্তানদের দেখার ইচ্ছা হলে ঈদের দিন (১৪ মে, ২০২১) শ্বশুর বাড়ি যান। সেখানে রাতে অবস্থান করেন। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় রুক্কু মিয়াকে কুঠার দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যাকাণ্ড ঘটায় স্ত্রী।
এদিকে, রুক্কু মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করতে পারছিল না। পরদিন ১৫ মে রুবিনার ভাই মো. রুবেল মিয়া মৃত রুক্কু মিয়ার ভাইকে মোবাইল ফোনে জানায়, তার বড় ভাই মাথায় আঘাত পেয়েছে। খবর পেয়ে আসাদ মিয়া পুলিশসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রুক্কু মিয়ার মরদেহ বিছানা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। এরপর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ওইদিনই রুক্কু মিয়ার ভাই বাদী হয়ে ভাইয়ের স্ত্রীকে একমাত্র আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে মোট ১১ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এই রায় দেন।