কুমিল্লায় জমির বিরোধে চাচাকে হত্যায় ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড
ফাইল ছবি
কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে চাচাকে হত্যার দায়ে ভাতিজাকে মৃত্যদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। সেই সাথে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কুহিনুর বেগম আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি সারোয়ার আলম কুমিল্লা জেলা সদর দক্ষিণ থানার রাজাপাড়া এলাকার কাজীপাড়া গ্রামের সফর আলী বাড়ির মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে। তিনিও পেশায় বৈদ্যুতিক সামগ্রী ব্যবসায়ী।
অন্যদিকে হত্যার শিকার মো. ছিদ্দিকুর রহমান ছিদ্দিক (৩৭) একই বাড়ির হাজী আমির হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন। তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
মামলার এজহারে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রাঢ়া রাজাপুরা চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি কালো ড্রাম দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ড্রাম খুলে ভেতরে ছিদ্দিকের মরদেহ উদ্ধার করে।এঘটনায় শাহরাস্তি থানার এসআই মো. আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এর আগে ভুক্তভোগীর পরিবার কুমিল্লার দক্ষিণ থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে ছিদ্দিককে শনাক্ত করেন স্বজনরা।
চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পরিদর্শক মীর মাহবুবুর রহমান তদন্ত করেন। তিনি অভিযান চালিয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার মিয়ার বাজার এলাকা থেকে আসামি সারোয়ার আলমকে গ্রেফতার করে। এরপর ২০২১ সালের ২ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাড়িতে চলাচলের রাস্তা না দেওয়ায় ছিদ্দিককে হত্যার পরিকল্পনা করেন সারোয়ার। ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা দক্ষিণ থানার চাঁদপুর এলাকায় ইতালি প্রবাসী মাহবুবুর রহমান শামীমের বাড়ির চতুর্থ তলায় ছিদ্দিককে ফোন করে ডেকে নেওয়া হয়।
এরপর তাকে আটক করে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। সেখান থেকে পরদিন মরদেহ ড্রামে ভরে ভাড়া করা পিকআপ ভ্যানে করে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে নিয়ে ফেলা হয়। আদালত ২০ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে।