কানাডিয়ান তরুণীর মৃত্যুর পর অস্ট্রেলিয়ায় ‘ডিঙ্গো’ হত্যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা

কানাডিয়ান তরুণীর মৃত্যুর পর অস্ট্রেলিয়ায় ‘ডিঙ্গো’ হত্যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা

সংগ্রহীত ছবি

অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের কাছে একটি দ্বীপে এক কানাডিয়ান তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকটি ডিঙ্গো (বন্য কুকুর) মেরে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

কুইন্সল্যান্ড সরকার জানায়, ১৯ জানুয়ারি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী কে’গারি দ্বীপের একটি সৈকতে ১৯ বছর বয়সী ব্যাকপ্যাকার পাইপার জেমসের মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর সন্দেহভাজন ছয়টি ডিঙ্গোকে মেরে ফেলা হয়।

 

এই সিদ্ধান্তে ডিঙ্গোদের কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। ডিঙ্গো হলো অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রাচীন বন্য প্রাণী। প্রায় ৪–৫ হাজার বছর ধরে সেখানে তাদের বসবাস। 

ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, পাইপারের মৃত্যু পানিতে ডুবে যাওয়ার সঙ্গে মিল আছে।

তবে তার শরীরে ডিঙ্গোর কামড়ের চিহ্নও পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, এই কামড়গুলো সরাসরি মৃত্যুর কারণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তে আরো কয়েক সপ্তাহ লাগবে।

এরপর সরকার জানায়, আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা যাওয়ায় মোট ১০টি ডিঙ্গোর একটি দলকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ছয়টিকে ইতিমধ্যে হত্যা করা হয়েছে এবং অভিযান চলবে। 

তবে বুচুল্লা আদিবাসী জনগোষ্ঠী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, ডিঙ্গো মারার আগে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি, যা হতাশাজনক। তাদের মতে, মানুষের মতামত ও ঐতিহ্যবাহী মালিকদের অধিকার উপেক্ষা করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিঙ্গো হত্যা করা ভুল সিদ্ধান্ত।

কারণ দ্বীপটিতে মোট ডিঙ্গোর সংখ্যা খুবই কম—মাত্র ৭০ থেকে ২০০টি। এত কম সংখ্যার মধ্যে ১০টি ডিঙ্গো মারা গেলে প্রজাতিটির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।

পাইপার জেমসের বাবা টড জেমস বলেন, মেয়ের মৃত্যুতে তাদের পরিবার গভীর শোকে ডুবে গেছে। তবে ডিঙ্গোদের মারা ফেলার খবর তাকে কষ্ট দিয়েছে। তিনি মনে করেন, মানুষের নিরাপত্তার জন্য এমন করা প্রয়োজনীয়।

বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, পর্যটকরা অনেক সময় ডিঙ্গোদের খাবার দেয়, এতে তারা মানুষকে ভয় করা বন্ধ করে দেয়। তখন মানুষকে তারা খাবারের উৎস হিসেবে দেখতে শুরু করে, যা বিপজ্জনক। ডিঙ্গোরা বন্য ও শিকারি প্রাণী। বিশেষ করে শিশু বা একা থাকা মানুষদের তারা সহজ লক্ষ্য মনে করতে পারে। তাই তাদের সম্মান ও সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেঞ্জার, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও পর্যটন কর্তৃপক্ষকে একসেঙ্গ কাজ করতে হবে, যাতে মানুষ ও ডিঙ্গো নিরাপদে একসঙ্গে থাকতে পারে।