চট্টগ্রামে শেষ হল শান্তিপূর্ণ প্রচারণা, তবুও শঙ্কা
ফাইল ছবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১১৫ জন প্রার্থী টানা প্রচারণা চালিয়েছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। প্রচারণাকালে কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সামগ্রিকভাবে পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে ভোটারদের মধ্যে এখনও এক ধরনের অজানা আতঙ্ক ও শঙ্কা কাজ করছে।
নির্বাচনে প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর গত ২২ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত টানা ১৯ দিন আনুষ্ঠানিক প্রচারণা চলে। নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ হওয়ার বিধান থাকায় ওই সময়েই প্রচারণা বন্ধ হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরো চট্টগ্রামকে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। প্রচারণার সময় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ৪০ হাজারের বেশি সদস্য এবং ১১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে স্ট্রাইকিং ফোর্সের আওতায় এনে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফোর্স পৌঁছানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে রয়েছে মোট ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র ও ১২ হাজার ১টি ভোটকক্ষ। ভোটগ্রহণ পরিচালনায় প্রস্তুত রয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার কর্মকর্তা। এর মধ্যে ৬০৭টি কেন্দ্র চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ১৬ থানার অধীন এবং ১ হাজার ৩৫৮টি কেন্দ্র জেলা পুলিশের ১৭ থানার অধীন।
এবার চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, এলডিপি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, গণ ফোরাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, সুপ্রিম পার্টি, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন।