মেসির পায়ে চোট, দুশ্চিন্তায় মায়ামি-আর্জেন্টিনা

মেসির পায়ে চোট, দুশ্চিন্তায় মায়ামি-আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত।

ফুটবল বিশ্বের জন্য সময়টা যেন হঠাৎ থমকে গেল। যখন সবাই লিওনেল মেসির জাদুকরী বাঁ পায়ের ছন্দে নতুন মৌসুম শুরুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল, ঠিক তখনই এলো অনাকাঙ্ক্ষিত এক দুঃসংবাদ। বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক। গত বুধবার মায়ামির অনুশীলনে তাঁর অনুপস্থিতি সমর্থকদের মনে যে শঙ্কার দানা বেঁধেছিল, আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এবং খোদ মেসির বার্তার পর তা এখন এক দুশ্চিন্তার পাহাড়ে রূপ নিয়েছে।

মেসির এই চোটের সূত্রপাত গত শনিবার। ইকুয়েডরের ক্লাব বার্সেলোনার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ইন্টার মায়ামি। ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হলেও সমর্থকদের জন্য আনন্দের খবর ছিল মেসির চলতি বছরের প্রথম গোল। কিন্তু গোল করার কিছু সময় পর, ম্যাচের ৫৮ মিনিটে হঠাৎই মাঠ ছেড়ে যান তিনি।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, কোচ হাভিয়ের মাচেরানো হয়তো কৌশলগত কারণে বা বিশ্রাম দিতে মেসিকে তুলে নিয়েছেন। কিন্তু বুধবার অনুশীলনে তাঁর অনুপস্থিতি এবং পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করেছে যে, মাঠ ছাড়ার কারণ ছিল হ্যামস্ট্রিংয়ের অস্বস্তি।

নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন মেসি নিজেই। ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় তিনি ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ইকুয়েডরে সর্বশেষ ম্যাচে আমি চোট পাই, যার কারণে দ্রুত মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। এই পরিস্থিতির কারণেই ক্লাব আমাদের পরবর্তী ম্যাচটি মুলতবি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করি দ্রুতই সুস্থ হয়ে আপনাদের মাঝে ফিরব এবং ম্যাচের নতুন সূচিতে দেখা হবে।

মেসির চোটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইন্টার মায়ামির প্রাক-মৌসুম সূচিতে। আগামী শুক্রবার পুয়ের্তো রিকোয় ইন্দিপেন্দিয়েন্তে দেল ভালের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল মায়ামির। কিন্তু দলের প্রাণভোমরার অনুপস্থিতিতে ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ম্যাচটি আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির বিপক্ষে এমএলএস-এর (MLS) নতুন মৌসুম শুরু করবে মায়ামি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন মেসির শারীরিক উন্নতির ওপর ভিত্তি করেই ঠিক করা হবে তিনি কবে অনুশীলনে ফিরবেন। ফলে লিগের প্রথম ম্যাচে তাঁর অংশগ্রহণ এখন বড় এক প্রশ্নচিহ্নের মুখে।

কেবল মায়ামি নয়, মেসির এই ইনজুরি কপালে ভাঁজ ফেলেছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিরও। আগামী ২৭ মার্চ (বাংলাদেশ সময় রাতে) ফিনালিসিমায় ইউরোপ সেরা স্পেনের মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

যদিও টিওয়াইসি স্পোর্টস বলছে, ম্যাচের এখনো দেড় মাস বাকি থাকায় মেসির সুস্থ হওয়ার যথেষ্ট সময় আছে। তবে উদ্বেগের জায়গাটি অন্যখানে। মেসির বর্তমান বয়স ৩৮ বছর। এই বয়সে হ্যামস্ট্রিংয়ের মতো পেশির চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে এবং ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে শরীর কতটা দ্রুত সাড়া দেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। ফিনালিসিমার মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মেসিকে শতভাগ ফিট না পাওয়া আলবিসেলেস্তেদের জন্য হবে বিশাল বড় ধাক্কা।

লিওনেল মেসি আগেই জানিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন কি না, তা নির্ভর করবে তাঁর শরীরের অবস্থার ওপর। বিশেষ করে এবারের প্রাক-মৌসুমকে তিনি নিজের ফিটনেস যাচাইয়ের বড় মানদণ্ড হিসেবে ধরেছিলেন। 

১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রাক-মৌসুমে মায়ামির হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি আলিয়ানজা লিমা (পেরু) ৩-০ ব্যবধানে হার, মেসি খেলেছিলেন ৬৩ মিনিট। আতলেতিকো নাসিওনাল (কলম্বিয়া) ২-১ ব্যবধানে জয়, মেসি মাঠে ছিলেন ৮৭ মিনিট। বার্সেলোনা (ইকুয়েডর) ২-২ ড্র, মেসি গোল করেন এবং ৫৮ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন।

প্রাক-মৌসুমের একদম শেষ পর্যায়ে এসে এই চোট মেসির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মেসি মানেই ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক উন্মাদনা। ৩৮ বছর বয়সেও তাঁর মাঠের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য ত্রাস আর সমর্থকদের জন্য স্বস্তি। হ্যামস্ট্রিংয়ের এই চোট হয়তো গুরুতর নয়, কিন্তু মেসির ক্যারিয়ারের এই সায়াহ্নে এসে প্রতিটি ছোট চোটই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এখন কোটি কোটি ভক্তের প্রার্থনা আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি এমএলএস-এর উদ্বোধনী ম্যাচ কিংবা মার্চের ফিনালিসিমা, যেখানেই হোক, মহাতারকা যেন রাজার বেশেই ফিরে আসেন।