নাটোরের গুরুদাসপুর আদর্শ গ্রামে প্রেমিকাকে নিক্ষেপের এসিড লাগল নানীর শরীরে, দগ্ধ ৭০ বছরের বৃদ্ধা
ছবি সংগৃহীত
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামে দুর্বৃত্তদের এসিড নিক্ষেপে হালিমা বেগম (৭০) গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। প্রেম প্রস্তাব ও ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় কলেজ ছাত্রী এসিড দগ্ধ বৃদ্ধার নাতনী শাবানাকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা এসিড গিয়ে পড়ে বৃদ্ধা হালিমা বেগমের শরীরে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
অ্যাসিড দগ্ধ বৃদ্ধার মেয়ে ও নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোসাম্মৎ চামেলী বেগম জানান, তাঁর মেয়ে শাবানাকে কলেজে যাওয়ার পথে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা পথরোধ করে ইভটিজিং ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
এ নিয়ে পরিবারে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তিনি আরো জানান এ ঘটনায় কোর্টে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গতরাত আনুমানিক রাত ২টার দিকে হালিমা বেগম ও তাঁর নাতনি শাবানা বাড়ি থেকে বাথরুমে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা শাবানাকে লক্ষ্য করে এসিড নিক্ষেপ করে। এতে শাবানা রক্ষা পেলেও হালিমা বেগম গুরুতরভাবে দগ্ধ হন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত হালিমাকে প্রথমে গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে নাটোর জেনারেল হাসপাতাল-এ রেফার্ড করা হয়।
সিভিল সার্জন মো. মুক্তাদির আরেফিন জানান, ভোর আনুমানিক ছয়টার দিকে এসিডে দগ্ধ একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিট-এ পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আহত হালিমা বেগমের মেয়ে ইউপি সদস্য চামেলী বেগম অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি ১১ বছরের এক শিশুর ধর্ষণ মামলায় তিনি সাক্ষ্য দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা তার পরিবারের ওপর প্রতিশোধমূলক ভাবে এ নৃশংস হামলা চালিয়েছে। এছাড়া তার মেয়েকেও কলেজে যাওয়া আসার পথে প্রেম প্রস্তাব ও ইভটিজিং করা হতো। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়েই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, শাবানা টর্চের আলোয় যারা এসিড নিক্ষেপ করেছে তাদেরকে চিনতে পেরেছে।
মায়ের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। তবে বিষয়টি উদাসপুর থানায় অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।