প্রতিবিপ্লব ও সামরিক শাসন থেকে দেশকে রক্ষা করেছি একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি

প্রতিবিপ্লব ও সামরিক শাসন থেকে দেশকে রক্ষা করেছি একান্ত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি

সংগৃহীত ছবি

ছাত্র-জনতার তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়ে দেশ। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে বিলম্ব হওয়ার প্রেক্ষিতে দেশে সামরিক শাসন বা প্রতিবিপ্লব হতে পারে বলে ব্যাপক আশঙ্কা দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজে দেশকে রক্ষা করেছেন বলে দাবি করেছেন। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে মুখ খোলেন।

 

রাষ্ট্রপতি জানান, প্রকাশ্যে বা গোপনে সামরিক শাসন জারির কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও তাঁকে জরুরি অবস্থা জারির জন্য বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রবলভাবে চাপ দেওয়া হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী কেবল রাষ্ট্রপতিরই জরুরি অবস্থা জারি করার এখতিয়ার রয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে টার্গেট করে নানা দিক থেকে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালানো হয়। 

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জরুরি অবস্থা বা সামরিক আইন জারির বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ ছিল না।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় দেশের ভেতরে একটি প্রতিবিপ্লব ঘটানোর উদ্যোগও ছিল। সাধারণত এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন সুযোগসন্ধানী পক্ষ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব পক্ষ অসাংবিধানিক কোনো পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করেছিল বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। 

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানান, সেনাবাহিনীপ্রধান, নৌবাহিনীপ্রধান ও বিমানবাহিনীপ্রধান, তিন বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বই জরুরি অবস্থা, সামরিক আইন কিংবা জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেন।

তাঁদের অবস্থান ছিল, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নির্বাচন পর্যন্ত অগ্রসর হওয়া সম্ভব।

রাষ্ট্রপতির দাবি, স্বশস্ত্র বাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পথ তৈরি করা। সে লক্ষ্যেই সেনাবাহিনীপ্রধান ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন দেখতে চাওয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেনাপ্রধানের মধ্যে ক্ষমতা দখলের কোনো আকাঙ্ক্ষা ছিল না।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, অতীতে ওয়ান-ইলেভেনের সময় জরুরি অবস্থা জারি করে দীর্ঘ সময় সেনাবাহিনীর ক্ষমতায় থাকার অভিজ্ঞতা জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল।

সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই সেনাবাহিনী এবার কোনোভাবেই সে পথে হাঁটেনি। 

নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁকেই মূলত জরুরি অবস্থা জারির জন্য টার্গেট করা হয়েছিল এবং তাঁর ওপর চরমভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়। তবে আল্লাহর রহমত এবং নিজের দৃঢ় মনোবলের কারণেই তিনি সে চাপ মোকাবিলা করতে সক্ষম হন এবং দেশকে একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।