ইফতারে পছন্দের শীর্ষে ৬৫ বছরের ঐতিহ্যের জিলাপি
সংগৃহীত ছবি
রাজশাহী নগরীর ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকায় বাটার মোড়ের জিলাপির নাম বহু আগে থেকেই শীর্ষে। বিশেষ করে রমজান মাস এলে ইফতারিতে এই জিলাপির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ৬৫ বছর ধরেই এই বাটার মোড়ের জিলাপির কদর রয়েই গেছে। প্রতিদিন দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দোকানের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করে নানা বয়সের ক্রেতারা।
যাদের মধ্যে বেশির ভাগই হলো রোজাদার।
জানা যায়, ১৯৬০ সালে সোয়েব উদ্দিন প্রথম এই বাটার মোড়ে জিলাপি তৈরির ব্যবসা শুরু করেন। তাঁর হাতের বিশেষ রেসিপি ও স্বাদের কারণে খুব অল্প সময়েই এই জিলাপি রাজশাহীবাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সময়ের ব্যবধানে সোয়েব উদ্দিন আর বেঁচে না থাকলেও তাঁর সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন তাঁর ছেলে হাসেম উদ্দিন, শামীম ও ইমরান আলী।
তাঁরা এখনো একই পদ্ধতি ও রেসিপি অনুসরণ করে জিলাপি তৈরি করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন দুপুর থেকে শুরু করে ইফতারের আগ পর্যন্ত দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। গতকাল শনিবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বড় একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে তৈরি করা হয় লালচে রঙের মচমচে জিলাপি।
এরপর তা পাশের আরেকটি চিনির রসের কড়াইয়ে ভিজিয়ে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পরই সেগুলো চামচ দিয়ে তুলে গরম গরম বিক্রি করা হয়, যা এর স্বাদকে আরো বাড়িয়ে তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, ‘বাটার মোড়ের জিলাপি রাজশাহীর ঐতিহ্য। আমি ২০ বছর ধরে এই জিলাপি খাচ্ছি। এর স্বাদ অন্য কোথাও পাই না।
ইফতারে এই জিলাপি না হলে যেন তৃপ্তি আসে না।’
রাজশাহীর ইতিহাস গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘বাটার মোড়ের এই জিলাপি শুধু একটি খাবার নয়, এটি রাজশাহীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রমজান মাসে এই জিলাপি যেন রোজাদারদের ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।’
দোকানের বর্তমান তিনজন মালিকের একজন ইমরান আলী। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই ব্যবসা প্রায় ৬৫ বছর ধরে চলছে। বাবা যেভাবে শুরু করেছিলেন, আমরা এখনো সেই রেসিপি ও মান বজায় রেখেই জিলাপি তৈরি করছি।’