কাঠের ফুল পাখিতে হেসে উঠছে কুমিল্লার খাদি

কাঠের ফুল পাখিতে হেসে উঠছে কুমিল্লার খাদি

সংগৃহীত ছবি

কাঠের ব্লক। ব্লকের গায়ে রয়েছে ফুল পাখিসহ নানা নকশা। সেই নকশায় লাগানো রঙের ছাপ পড়ে খাদি কাপড়ের গায়ে। এতে প্রাণহীন কাপড় ফুল পাখিতে হেসে উঠে। কুমিল্লায় প্রতিবছর ঈদ,পূজায় বাজারে চাহিদার শীর্ষে থাকে খাদির পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, ফতুয়া, শাড়ি ও বিছানার চাদর। 

এবারের ঈদ উল ফিতরে ঐতিহ্য আর আধুনিক ডিজাইনে ভোক্তাদের মন মাতাচ্ছে খাদির কাপড়। বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়লেও তেমন বাড়েনি খাদি পোশাকের দাম। দামে সাশ্রয়ী ও কাপড়ের মান ভালো হওয়ায় ক্রেতারা খাদিতে ঝুঁকছেন। 

সূত্রমতে, কুমিল্লার খাদির পোশাকের সুখ্যাতি দেশজুড়ে। সেটি এখন জিআই পণ্য। কুমিল্লায় আসলে খাদি কাপড় ছাড়া খালি হাতে ফিরেছেন এমন লোক কমই পাওয়া যাবে। বর্তমানে কুমিল্লা শহরে খাদির নাম সংযুক্ত দোকান আছে চার শতাধিক। নগরীর রাজগঞ্জ বাজারের পশ্চিম দিক থেকে কান্দিরপাড়ের রামঘাটলা পর্যন্ত এসব দোকানের অবস্থান। এছাড়া লাকসাম রোডে কিছু দোকান রয়েছে। খাদি কাপড় বিক্রির আলাদা মার্কেট হিলটন টাওয়ার রয়েছে নগরীর রাজবাড়ি এলাকায়। খাদির কাপড় বিচ্ছিন্নভাবে যাচ্ছে আমেরিকা,ইংল্যান্ড,মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। 
সরেজমিন একটি কারখানা গিয়ে দেখা যায়, কেউ কাপড়ে রঙের ব্লক করছেন। কেউ নকশা কেউবা সেলাই করছেন। কারখানার মালিক কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছেন। ঈদে পাঞ্জাবি ও থ্রি পিসের কাজ শেষ। এখন কিছু বিছানার চাদরের কাজ করা হচ্ছে। ঈদ বাজার নিয়ে তাদের প্রতিটি মহূর্ত ব্যস্ততায় কাটছে। 
কারিগর মো.সাজ্জাদ বলেন,এখানে ১০বছরের মতো কাজ করি। হাতে যত্নের সাথে প্রতিটি কাজ করা হয়। কাপড় ও রঙের কোয়ালিটির বিষয়ে আমরা সচেতন থাকি।
সাংস্কৃতিক সংগঠক জামিল আহমেদ খন্দকার বলেন, খাদির গোড়াপত্তন হয়েছে একশ’ বছরের বেশি সময় আগে। সারা বিশ্বেই কুমিল্লার শাড়ি ও খাদি কাপড়ের নামডাক ছিল। স্বদেশি আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধী বিদেশি পণ্য বয়কটের ডাক দেন। মোটা কাপড়, মোটা ভাত-সর্বত্র এমন আওয়াজ ওঠে। স্বদেশি আন্দোলনের পর খাদি কাপড়ের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠে। কুমিল্লার মানুষ খাদি কাপড় পছন্দ করতেন। বড় বড় নেতারা খাদির পায়জামা, চাদর, পাঞ্জাবি পরে গৌরববোধ করতেন। খাদি কুমিল্লাকে ব্র্যান্ডিং করে। 
ব্যাংকে চাকরি করেন মাসুকুর রহমান। চাঁদপুর থেকে এসেছেন। তিনি বলেন, খাদির কাপড়ের রং পাকা। কম দামে টেকসই পোশাক। যে পাঞ্জাবি অন্য ব্র্যান্ডের শোরুমে ৬০০০ টাকা, সেটি খাদি কাপড়ের মধ্যে ১৫০০-১৮০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। আমরা পরিবার ও অফিসের জন্য খাদি কাপড়কে প্রাধান্য দেই।
ক্রেতা ঝর্না বড়–য়া বলেন,আমাদের যে কোন উৎসবে খাদির কাপড় ক্রয় করি। খাদির শাড়ি থ্রিপিস আমার খুব প্রিয়। কুমিল্লার ঈদ পূজা উৎসব মানেই খাদির কাপড়।  

খাদিঘরের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার রাহা বলেন, খাদি পোষাকের কোয়ালিটিতে আমরা কোন আপোষ করি না। তাই কাপড়ের রং থাকে পাকা। দামেও সাশ্রয়ী। ১৯২১ সালের প্রেক্ষাপট ও চাহিদা এক নয়। বর্তমানে খাদি শিল্পে অনেক নতুন নতুন ডিজাইন এসেছে। দাদা, বাবা, ছেলে ও নাতি মিলে আমরা চার প্রজন্মের চাহিদা মিটিয়ে আসছি।