মক্কায় দাফন করা হলো পটিয়ার সেই প্রবাসী মফিজুর রহমানকে

মক্কায় দাফন করা হলো পটিয়ার সেই প্রবাসী মফিজুর রহমানকে

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের পটিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশি মফিজুর রহমানকে (৬৫) অবশেষে মক্কাতেই দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুর তিন দিন পর শুক্রবার (১৩ মার্চ) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় পবিত্র মসজিদ আল হারাম শরীফে জানাজা শেষে তাকে মক্কা নগরীতেই দাফন করা হয়।

পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৯ মার্চ রাতে মক্কা শরীফ হতে তারাবির নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মফিজুর রহমান। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, মক্কায় তার কফিল (নিয়োগকর্তা) গত ১০ মার্চ রাতে পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, জীবদ্দশায় মফিজুর রহমান তার কফিলকে অনুরোধ করেছিলেন যদি তার মৃত্যু হয়, তবে যেন তাকে পবিত্র মক্কা নগরীতেই দাফন করা হয়। তার সেই শেষ ইচ্ছা অনুযায়ীই শুক্রবার রাতে জানাজা শেষে তাকে মক্কায় দাফন করা হয়েছে।

নিহত মফিজুর রহমান চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের ঘাটা এলাকার বাসিন্দা।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে বসবাস ও কর্মরত ছিলেন।

নিহতের বড় ছেলে তারেকুর রহমান তারেক বলেন, আমার বাবা প্রতিদিনের মতো তারাবির নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তিনি আরো জানান, তার বাবা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মক্কায় কর্মরত ছিলেন। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই তিনি দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তিনি দেশে এসেছিলেন। এবার ছুটিতে দেশে এসে দুই মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও করেছিলেন।

মফিজুর রহমানের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পটিয়া পৌরসভার মাঝের ঘাটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

প্রবাসে তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত মহলে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, চার মেয়ে এবং নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার স্বজনরা।