নেত্রকোনার মদনে পূর্বশত্রুতার জেরে মারামারিতে নারীসহ আহত ৭

নেত্রকোনার মদনে পূর্বশত্রুতার জেরে মারামারিতে নারীসহ আহত ৭

সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার মদনে পূর্ব শত্রুতার জেরে ঈদের জামাত শেষেই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত নারীসহ মোট ৭ জন আহত হয়ে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। 

শনিবার দুপুরে উপজেলার পরশখিলা গ্রামে এই মারামারির ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন সোনামিয়া (৫০), আব্দুল হেকিম (৭০), সোনা মিয়ার ছেলে মাসুম মিয়া (১৬), আজিদা ডাক্তার (৫৫), সোনা মিয়ার মা খোদেজা খাতুন (৮৫)।

অপরদিকে আবু তালেবের পক্ষের আহত হয়েছেন আবু লায়েস মিয়ার স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও শাকিব। আহতরা সকলেই উপজেলার মদন সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মদন উপজেলার পরশখিলা গ্রামের আবু তালেব গ্রুপ ও সোনামিয়া গ্রুপের মধ্যে ৩ থেকে ৪ মাস আগে ঝগড়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন সালিশ বৈঠক করে ঝগড়ার মীমাংসা করে দেন। কিন্তু সেই শত্রুতা আবারও মাথাচাড়া দিলে গত ২৯ রমজান আবু তালেবের পক্ষের শাকিব নামের এক যুবক সোনা মিয়ার ছেলে নাঈমকে মারপিট করতে উদ্যত হন। পরে স্থানীয় লোকজন শাকিবকে ফিরিয়ে দেয়ায় তারা নাঈমকে মারধর করতে না পেরে ঈদের মধ্যেই তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি-ধমকি দেন। 
এরই জেরে ঈদের দিন আবু তালেবের লোকজন ঈদগাহ মাঠ থেকে নামাজ শেষ করেই সোনা মিয়ার বাড়িতে হামলা করেন। এসময় সোনা মিয়া ও তার বৃদ্ধ মাসহ উভয় পক্ষের সাতজন আহত হন। 

আহত সোনা মিয়ার ছেলের শামীম জানান, ৩ থেকে ৪ মাস আগে আমার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অপবাদ দেয় আবু তালেবের ছেলে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন সালিশ বৈঠক করে ঝগড়া মীমাংসা করে দেন। কিন্তু রমজানের ২৯ তারিখ আবু তালেবের লোকজন কোনো ঘটনা ছাড়াই আমার ভাই নাঈমকে মারপিট করতে আসে। পরে উপস্থিত লোকজন তাদেরকে ফিরিয়ে দেন। আজ ঈদের নামাজ শেষ করে এসেই আমাদের বাড়িঘরে হামলা করে তারা। আজ ৮০ বছর বয়সী আমার বৃদ্ধ দাদীকেও তারা মারপিট করে।

এ নিয়ে আবু তালেবের ছেলে রনি জানান, সোনা মিয়ার সাথে আমাদের কোনো ঝামেলা নেই। শাকিব নামের একজনের সাথে সোনা মিয়ার ছেলের ঝামেলা হয়েছিল। পরে তাদের মধ্যে একটু মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় আমার এক খালাও আহত হয়েছেন।

মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দেবাংশু সরকার বলেন, এমন কোনো খবর পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।