বরযাত্রীর মাইক্রোবাসের ‘সাইড’ দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, ট্রাকচালক নিহত

বরযাত্রীর মাইক্রোবাসের ‘সাইড’ দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, ট্রাকচালক নিহত

ফাইল ছবি

দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের কাহারোলে গাড়ির সাইড চাওয়াকে কেন্দ্র করে বরযাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার দশমাইল মোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কাহারোল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শ্যামল কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহত মোস্তফা কামাল (৪০) কাহারোল উপজেলার গড়নুরপুর গ্রামের সাইরুদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ট্রাকচালক এবং স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা থেকে ৭-৮টি মাইক্রোবাসে করে বরযাত্রীরা রংপুরের তারাগঞ্জ যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যায় কাহারোল উপজেলার তেরমাইল এলাকায় পৌঁছালে একই দিকে চলা একটি সিএনজি অটোরিকশার কাছে হর্ন দিয়ে সাইড চান মাইক্রোবাস চালক। 

এ সময় ওভারটেক করতে গিয়ে মাইক্রোবাসটি সিএনজিটিকে চাপ দেয়। তবে সেখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। পরে সিএনজিচালক শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বিষয়টি দশমাইল এলাকার কয়েকজনকে জানান এবং বরযাত্রীর গাড়িগুলো আটকাতে বলেন। 

খবর পেয়ে মোস্তফা কামাল আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দশমাইল শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনে মাইক্রোবাসগুলো আটকে দেন। এ সময় মাইক্রোবাস থেকে বরযাত্রীরা নেমে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কিতে মোস্তফা কামাল গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাসুদ রানা বলেন, মোস্তফা কামালকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে মোস্তফা কামালের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দশমাইল এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে দিনাজপুর-পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও-রংপুর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন বলেন, গাড়ির সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে