তরমুজ বোঝাই ট্রলার ছিনতাই, উপ-খাদ্য পরিদর্শক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি
তরমুজবোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া উপ-খাদ্য পরিদর্শক মো. অলিউল্লাহ অলিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাউফল থানা পুলিশ।
মো. অলিউল্লাহ অলি মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদে কর্মরত। তিনি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের হারুন মুন্সির ছেলে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকির হোসেন জানান, বাউফল থানা থেকে অফিসিয়াল চিঠি পাওয়ার পর ২৭ মার্চ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাউফল পৌরসভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কয়েকজন কৃষক বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরের জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করছিলেন। চলতি মৌসুমেও তারা চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় তরমুজ চাষ করেন।
অলিউল্লাহ ওই জমি নিজের দাবি করে তরমুজ কাটতে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ১৬ মার্চ চাষিরা প্রায় ৯ হাজার তরমুজ কেটে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিলে তিনি ও তার সহযোগীরা অস্ত্র নিয়ে গিয়ে ফের চাঁদা দাবি করেন। চাষিরা অস্বীকৃতি জানালে তারা ট্রলার দুটি ছিনিয়ে নেয়। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ট্রলার ফেরত দেওয়া হলেও অন্যটি ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরব আলী বাদী হয়ে অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় মামলা করেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, চাঁদাবাজির মামলায় অলিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।