হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩
প্রতিকি ছবি
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার আবু ছায়েদ (৫৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের ৯ মাস পর শনিবার বিকেলে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার আদাঐর এলাকা থেকে পিবিআইয়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি দল তাদেরকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন আদাঐর গ্রামের রুক্কু মিয়ার ছেলে মোঃ খোকন (২০), (সে নিহতের সৎ ছেলে)। একই এলাকার ইন্দু মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (৫৮) ও মঞ্জু মিয়ার ছেলে আক্কাস মিয়া (৫৮)।
সোমবার সকালে গ্রেপ্তারকৃতদেরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নিহত আবু ছায়েদ আদাঐর দক্ষিণপাড়ার মৃত তারা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ০৩/০৬/২০২৫ খ্রি. তারিখ রাতে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন আবু ছায়েদ। পরদিন ০৪/০৬/২০২৫ খ্রি. তারিখ নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চান্দিরভিটি এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ রুবেল মিয়া বাদী হয়ে গত ০৬/০৬/২০২৫ খ্রি. তারিখে নাসিরনগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
পরে নাসিরনগর থানার পুলিশ দীর্ঘ ০৮ মাস তদন্ত করেও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হলে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে মামলার তদন্তভার পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে প্রদান করেন। পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা এস.আই মো. শাহাদাত হোসেনকে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে এস.আই মো. শাহাদাত হোসেন গত শনিবার বিকেলে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার আদাঐর এলাকা থেকে হত্যাকান্ডে জড়িত ৩ আসামীকে গ্রেপ্তার করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই শাহাদাত হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, নিহত আবু ছায়েদ আসামী খোকনের মা ফরিদা বেগমকে দ্বিতীয় বিবাহ করেছিলেন। আবু ছায়েদের সাথে তার স্ত্রী ফরিদা বেগম ও শ্যালক ফারুক মিয়ার জায়গা-জমি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে আবু ছায়েদ ইতিপূর্বে ফরিদা বেগম ও তার ভাই ফারুক মিয়াকে মারধর করেছিলেন। এই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই ফারুক মিয়া ও মো. খোকন তাদের সহযোগীদের নিয়ে আবু ছায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা মোতাবেক, গত ০৩/০৬/২০২৫ খি. তারিখ রাত ১টার দিকে খোকন তার সৎ পিতা আবু ছায়েদকে সেচ পাম্পের ঘর থেকে প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ফারুক মিয়া, খোকন, দুলাল, দুলালের ছেলে শুক্কুর ও ভাই আপন ও প্রতিবেশী আক্কাসসহ অন্যান্য সহযোগীরা আবু ছায়েদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায়, কপালে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর আলামত লুকানোর জন্য আসামিরা আবু ছায়েদেও লাশ গ্রেপ্তারকৃত দুলালের নৌকায় করে সোনাই নদী সংলগ্ন একটি ফসলি জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।
পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ফারুক মিয়াসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।