কুমিল্লার লাকসামে ১২ ঘণ্টায় কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৬
সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লার লাকসামে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) ১২ ঘণ্টায় কুকুরের কামড়ে ১৬ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৫ জন শিশু ও একজন বৃদ্ধা রয়েছেন। এই ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আহতরা হলো- পৌর শহরের পশ্চিমগাঁও বাগিচাপাড়ার সিদরাতুল মুনতাহা (৬), হামিরাবাগ এলাকার আনিকা (৭), ছনগাঁও গ্রামের ওমর ফারুক (৭), আয়ান (৬), নুসরাত (৫), কান্দিরপাড় গ্রামের রাইসা (১০), আয়ান (১৬ মাস), পশ্চিমগাঁও এলাকার মিম (১২), আরিফ (২), মমিনা খাতুন (৭০) এবং সাতবাড়ীয়া গ্রামের জান্নাতুল ফেরদৌস (৬)সহ আরো পাঁচ শিশু রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম কুকুরের কামড়ে আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, লাকসাম পৌর শহর এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এদিন বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শিশুসহ ১৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে টিকা প্রদানসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের পারিবারসহ একাধিক সূত্র জানান, পৌর শহরের পশ্চিমগাঁও, বাতাখালী, গাজিমুড়া, ফতেপুর, ধামৈচা, দক্ষিণ লাকসাম সাহাপাড়া, পেয়ারাপুর, নশহতপুর, রেলওয়ে জংশন বাজার, দৌলতগঞ্জ বাজারসহ উপজেলার কান্দিরপাড়, হামিরাবাগ, সাতবাড়ীয়া, মুদাফরগঞ্জ, শ্রীয়াং, আউশপাড়া, নরপাটি, ভাকড্যা, গোবিন্দপুর, বেতিহাটি, লক্ষীপূর, রামারবাগ, ঠেঙ্গারপাড়, বাকইসহ বিভিন্ন এলাকায় আশঙ্কাজনক ভাবে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব এবং অবাধ বিচরণ বেড়ে গেছে। দলবদ্ধ কুকুরগুলো পথচারীদের ধাওয়া করছে এবং অনেককে কামড়ও দিচ্ছে। এতে সবার মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
উপজেলা পরিষদ গেট সংলগ্ন চা দোকানদার মাকসুদুর রহমান জানান, বুধবার সকালে তার মেয়ে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে হঠাৎ একটি কুকুর দৌড়ে এসে কামড় দেয়।
এতে তার শরীরের মাংস ছিঁড়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।
তিনি আরো জানান, রাতে ও দিনের বেলায় প্রায় ১২ থেকে ১৪টি কুকুর দলবদ্ধভাবে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। ফলে নারী ও শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পৌর শহরের পশ্চিমগাঁয়ের বাসিন্দা মো. আবদুর রাজ্জাক, পুরান বাজার এলাকার আলী হোসেন এবং রাজঘাট এলাকার বাবুল মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, রাস্তাঘাট, বাজার, বাসা বাড়ির সামনে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে।
কুকুরগুলো দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়। ফলে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা আতঙ্কে থাকেন। এ ছাড়াও অনেক কুকুর অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত। এসব কুকুর বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে মুখ দিচ্ছে। যাহা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ১০টায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ এক দিনেই কুকুরের কামড়ে ১৬ জন আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। এর মধ্যে ১৫ জনই শিশু। আমরা প্রত্যেককেই টিকা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেছি। তবে কাউকে ভর্তি করতে হয়নি।
তিনি জানান, কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকি থাকে। তাই আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে এনে টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা বলেন, পরিবেশগত কারণে কুকুর নিধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব কমাতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনাক্রমে শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইউএনও বলেন, কুকুর থেকে সাধারণ জনগণকেও সতর্কতার সঙ্গে এবং সাবধানে চলাচল করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের প্রতি নিবিড়ভাবে খেয়াল রাখতে হবে।