যুক্তরাষ্ট্রে জিজ্ঞাসাবাদের পর চীনা গবেষকের রহস্যজনক মৃত্যুতে চটেছে বেইজিং

যুক্তরাষ্ট্রে জিজ্ঞাসাবাদের পর চীনা গবেষকের রহস্যজনক মৃত্যুতে চটেছে বেইজিং

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা এক সেমিকন্ডাক্টর গবেষকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে চীন। অভিযোগ উঠেছে, মৃত্যুর আগে ওই গবেষককে মার্কিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ‘বৈরী জিজ্ঞাসাবাদের’ মুখে পড়তে হয়েছিল।

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে গবেষকের নাম বলা হয়েছে ডানহাও ওয়াং।

তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী গবেষক ছিলেন। 

সিবিএস নিউজের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ফেডারেল তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে। 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ১৯ মার্চ ক্যাম্পাসের একটি ভবন থেকে পড়ে এক গবেষকের মৃত্যু হয়েছে এবং এটি ‘সম্ভাব্য আত্মহত্যা’ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে ব্যথিত।

’ তিনি জানান, এ বিষয়ে চীন একাধিকবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

চীনা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরতদের ‘নিজেদের নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে’ হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

যদিও দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেনি, তবে পূর্বে তারা তাকে ডানহাও ওয়াং হিসেবেই উল্লেখ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পরিবারের গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে পরিচয় নিশ্চিত করা থেকে বিরত রয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২৭ মার্চ প্রথম এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা দাবি করে, ‘মার্কিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বৈরী জিজ্ঞাসাবাদের’ পর ওই গবেষক আত্মহত্যা করেন। এমন আচরণ চীনা নাগরিকদের বৈধ অধিকার লঙ্ঘন করে এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলেও অভিযোগ করে বেইজিং। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বুধবার পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘চীনা নাগরিকদের বৈধ অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালে জেন উ নামের এক চীনা-মার্কিন স্নায়ুবিজ্ঞানীর আত্মহত্যার ঘটনাও আলোচনায় আসে। তার পরিবার অভিযোগ করে, দীর্ঘদিনের ফেডারেল তদন্ত চলাকালে নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিল।

জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ২০২০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে কয়েকজন চীনা শিক্ষার্থী ও গবেষকের ভিসা নিষিদ্ধ করেন।

পরবর্তী সময় কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ছয় লাখ চীনা শিক্ষার্থীকে ভিসা দেয়। তবে নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় আবারও দুই দেশের সম্পর্ক ও শিক্ষাঙ্গনে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।