প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এ্যাসোশিয়েশনের সাধারণ সভা আজ
ফাইল ছবি
বাংলাদেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সমূহের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এ্যাসোশিয়েশন (বিপিএমসিএ)। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ঢাকার ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করে প্রথম বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হিসাবে। তখন সরকারি খাতে মেডিকেল কলেজ ছিল ৮ টি। বর্তমানে দেশে ১১৪ টি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ১১,৮৮৩। এর মাঝে ৩৭ টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ৫১০০; ৬৯ টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ৬৩০৮; এবং সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত ৮ টি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ৪৭৫ । মেডিকেল কলেজের সংখ্যায় বেসরকারি খাত ৬১ শতাংশ আর আসন সংখ্যার বিচারে ৫৩ শতাংশ। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অবদান তাই সিংহভাগ।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ৫ শতাংশ আসন মেধাবী-অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। সে হিসাবে প্রতি বছর ৩১৫ জন শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজের মতো ব্যয় নির্বাহ করে ডাক্তার হচ্ছেন বেসরকারি মেডিকেল হতে। বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেন ৪৫ শতাংশ। সে হিসাবে প্রতি বছর ২,৮৩৯ জন বিদেশী শিক্ষার্থী বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হচ্ছেন। বিদেশী শিক্ষার্থী মাথা পিছু গড়ে ৪০,০০০/- মার্কিন ডলার ব্যয় করলে, এখাতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন প্রতি বছরে ১১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। মার্কিন ডলার ১২৩ টাকার সমান ধরলে টাকার অংকে প্রতি বছর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ১৩৯৬ কোটি ৭৮ লক্ষ ৮০ হাজার। এর বাইরে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর ৬ বছর বাংলাদেশে অবস্থান কালে যে খরচ তা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন ২০২২ অনুযায়ী বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সমূহে দরিদ্র জনগনের জন্য সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় ন্যূনতম ১০ শতাংশ শয্যা স্থায়ীভাবে সংরক্ষন ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসায় ব্যবস্থা রয়েছে। একই আইন অনুযায়ী প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ন্যূনতম ৫ টি হাসপাতাল শয্যা আবশ্যক। সে হিসাবে ৬৩০৮ আসনের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সমূহে শয্যা রয়েছে ৩১,৫৪০ টি। এর মাঝে ৩,১৫৪ টি শয্যায় সম্পূর্ণ বিনা খরচে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
এক কথায় বাংলাদেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সমূহ সংখ্যা ও আসনে সংখ্যা গরিষ্ঠ। প্রতি বছর ৩১৫ জন শিক্ষার্থীকে সরকারি মেডিকেল কলেজের মতো খরচে ডাক্তার হতে সহযোগিতা করছে। ৩,১৫৪ টি হাসপাতাল শয্যায় সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। আর প্রতি বছর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করছে প্রায় ১৪০০ কোটির সমপরিমান।
দেশের উন্নয়নে এমন বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সমূহ আশানুরুপ সরকারি সহযোগিতার পরিবর্তে পদে পদে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ধারা অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী তথাপি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২২ জারী করা হয়েছে শুধুমাত্র বেসরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য, যা সরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য প্রযোজ্য নয়। সংবিধানের সাথে সাংঘষিক এই আইন। অটোমোশনের নামে চলছে সরকারি প্রশাসনযন্ত্রের প্রতি পদক্ষেপে নিয়ন্ত্রন। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ১২ ডিসেম্বর ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত হলেও, ৪ মাস অতিক্রান্ত হতে চলেছে, কিন্ত বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি শেষ হয়নি। কবে ক্লাশ শুরু হবে তার কোন হদিশ নেই। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন নষ্টের এমন উদাহরণ পৃথিবীতে বিরল। সরকারি মেডিকেল কলেজ গুলোতে আগে ভর্তি করা হয়, পাশাপাশি চলে সশস্ত্র বাহিনীর মেডিকেল কলেজ সমূহে ভর্তি। সব শেষে যারা রয়ে যায় তাদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তির দ্বার। সেটিও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করে ধাপে ধাপে। উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পাশকৃত শিক্ষর্থীদের সামনে থাকে ভর্তির নানাবিধ সুযোগ-বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি সহ মেডিকেল। তাই মেডিকেলে ভর্তিতে সময়ক্ষেপন করলে পরে মেডিকেলের জন্য শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। ২০২২-২৩ শিক্ষা বর্ষ হতে অটোমোশন চালু করে ঐ বছরে সীট শূন্য ছিল ২৫৭ টি, ২০২৩-২৪ শিক্ষা বর্ষে ১৫৩ টি, ২০২৪-২৫ শিক্ষা বর্ষে ৪৫৯ টি। এই আসন ফাঁকা শুধুমাত্র বেসরকারি মেডিকেল নয়, যার জন্য শিক্ষার মানের অনুপস্থিতিকে দায়ী করেন কর্তাব্যক্তিরা; সরকারি মেডিকেল কলেজেও আসন শূন্য থেকে গেছে। যেহেতু জবাবদিহীতার কোন বালাই নেই, তাই সরকারি কর্মকর্তারা নিজেদের খামখেয়ালীপনা চরিতার্থ করছেন জাতিকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিকিৎসক হবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। কি বিচিত্র এই দেশ!
এমনি প্রেক্ষাপটে আজ, ১১ এপ্রিল রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন ক্রাউন প্লাজা হোটেলে বিকালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিপিএমসিএর বার্ষিক সাধারণ সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। বিপিএমসিএর ইতিহাসে সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গত বছরের জুলাই মাসে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল সমূহের ডা. শেখ মহিউদ্দিন সভাপতি নির্বাচিত হন। নব নির্বাচিত কার্য্যনির্বাহী কমিটির সময়কালে এটি প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন জনাব সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন এম পি, মাননীয় মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সম্মনিত অতিথি থাকবেন ড.এম.এ মুহিত এম পি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়। আরও উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার, রেজিষ্ট্রার, বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল অধ্যাপক ডা. নাদিম আহম্মদ, ডীন, চিকিৎসা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল; অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, মহাপরিচালক স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর প্রমুখ। বিপিএমসিএর সভাপতি ডা. শেখ মহিউদ্দিনের সভাপতি অনুষ্ঠিতিব্য এই সভায় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন স্বাগত বক্তব্য; প্রাক্তন সভাপতি এম এম মবিন খান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বক্তব্য রাখবেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি।